শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শিমরাইল-ডেমরা সড়কে ভয়াবহ খানাখন্দ, দুর্ঘটনার শঙ্কায় চালক-যাত্রীরা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৭ আগস্ট ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

নারায়ণগঞ্জের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিমরাইল-ডেমরা সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও যানবাহন চালক। 

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া এসব খানাখন্দ মেরামত না করায় প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তগুলোর গভীরতা বোঝা না যাওয়ায় রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও পরিবহন চালকরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে শিমরাইল এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিমরাইল-ডেমরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক যানবাহনকে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। এতে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকা থেকে শুরু হওয়া শিমরাইল-ডেমরা সড়কটি একসময় ডেমরা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে শিমরাইল চৌরাস্তায় যান চলাচলের পরিবর্তনের পর এটি শিমরাইল-ডেমরা সড়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এই সড়ক ব্যবহার করে ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, স্টাফ কোয়ার্টার, কোনাপাড়া, বনশ্রী এবং গাজীপুর বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।

এ কারণে সড়কটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়লেও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে শিমরাইল মোড়, ঈদগাহ এলাকা এবং গলাকাটা পুল সংলগ্ন অ্যাপোলো কারখানার সামনে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে শিমরাইল মোড়ের একটি গর্ত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিমরাইল মোড়ের বড় গর্তটিতে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। ফলে দূর থেকে গর্তটি বোঝা যায় না। অনেক মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন হঠাৎ গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

একই রুটের অটোরিকশা চালক ইকবাল হোসেন বলেন, “দিনে কোনোভাবে গাড়ি চালানো গেলেও রাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। গর্তে পানি জমে থাকায় কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত বোঝা যায় না। অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে পেছনের গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার উপক্রম হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে খুব ধীরে গাড়ি চালাতে হয়। এতে সময়ও বেশি লাগে, আবার যানজটও সৃষ্টি হয়। আমরা চাই দ্রুত সড়কটি মেরামত করা হোক।”

স্থানীয় দোকানি আলাল মিয়া বলেন, “অনেকদিন ধরেই এই গর্তগুলো রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক মোটরসাইকেল আরোহী গর্তে পড়ে আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান জানান, প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে ঢাকায় যাতায়াত করেন। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

তাদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে খানাখন্দগুলো আরও বড় আকার ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। মাঝে মাঝে ইট বা খোয়া ফেলে সাময়িকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা বৃষ্টির পানিতে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

পথচারীরাও বলছেন, শুধু যানবাহন চালকরাই নন, সাধারণ মানুষও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বৃষ্টির দিনে রাস্তা পার হতে গিয়ে অনেকেই হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

গাইবান্ধায় নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর প্রবাসীর লাশ উদ্ধার

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, “"শিমরাইল-ডেমরা সড়কটি আমাদের অধীনে নয়, এটি ঢাকা সড়ক বিভাগের আওতাধীন। সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। শুনেছি, এর মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। টেন্ডার অনুমোদন হলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।"

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলো আরও বড় হওয়ার আগেই দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জনস্বার্থে শিমরাইল-ডেমরা সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভোরের আকাশ/রই 

প্রকৌশলী আব্দুর রহিম

শেয়ার করুন: