শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পিরোজপুরের বৈঠাকাটায় ভাসছে দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১ অক্টোবর ২০২৫, ৩:২০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বাজার। এখানকার বিশেষত্ব হলো, এটি একটি ভাসমান বাজার বাংলাদেশের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ভাসমান বাজারের মধ্যে এটি একটি। প্রাকৃতিক জলাধার, খাল ও বিলের ওপর গড়ে ওঠা এই বাজারটি শুধু স্থানীয় বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিরও ধারক-বাহক।

এই বাজারের বয়স প্রায় দুই শতাব্দী। স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রায় ২০০ বছর আগে নদীপথকে ঘিরে যখন আশপাশে সড়ক যোগাযোগ দুরূহ ছিল, তখনই এ বাজার গড়ে ওঠে। এক সময় এটাই ছিল গোটা অঞ্চলের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। এখনো সপ্তাহে দুই দিন শনি ও মঙ্গলবার এই ভাসমান বাজার বসে।

এই বাজারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এখানকার অধিকাংশ লেনদেন নৌকার ওপরেই সম্পন্ন হয়। মুদি দোকানি, ফুল-ফল বা বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যের ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে এসে জড়ো হন খালের এক নির্দিষ্ট অংশে। সেখানেই চলে পণ্যের প্রদর্শনী ও কেনাবেচা। কিছু কিছু নৌকা নিজেই দোকান হিসেবে ব্যবহার হয়, যেখানে সাজানো থাকে সবজি, চাল, ডাল, মসলাসহ নানান পণ্য।

ক্রেতারাও নৌকা নিয়ে বাজারে আসেন। অনেকে খালের পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থেকেই দরদাম করে কিনে নেন প্রয়োজনীয় পণ্য।

এই ভাসমান বাজার শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি একটি জীবন্ত ঐতিহ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতা আসলেও বৈঠাকাটার মানুষ এখনো বাজারটির প্রাচীন রীতি ও নিয়মগুলো ধরে রেখেছেন।

ছবি: ভোরের আকাশ

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, এক সময় এই বাজারে আশপাশের ১৫-২০টি গ্রামের মানুষ একত্র হতেন। বেচাকেনার পাশাপাশি এটি ছিল সামাজিক মেলবন্ধনের একটি জায়গাও। বাজারে আসতেন ফেরিওয়ালারা,  এমনকি গৃহস্থালি সামগ্রীর মেরামতকারীরাও।

যদিও বাজারটি এখনো চলমান, তবে সময়ের চাপে এটি হারাতে বসেছে তার পুরনো জৌলুস। সড়ক যোগাযোগ বাড়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারা অনেকেই এখন স্থলভিত্তিক বাজারমুখী হচ্ছেন।

স্থানীয়  সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, বৈঠাকাটার ভাসমান বাজারটি শুধু সংরক্ষণ করলেই হবে না, এটিকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনাও কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে শহুরে মানুষদের কাছে এটি হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

তাঁদের দাবি, সরকার চাইলে বাজার এলাকায় পর্যটকদের জন্য নৌকা ভ্রমণ, খাবারের আয়োজন, স্থানীয় হস্তশিল্পের প্রদর্শনীসহ নানা কার্যক্রম চালু করতে পারে। তাতে বাজারটির ইতিহাস যেমন বাঁচবে, তেমনি চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও নতুন করে উৎসাহ পাবে।

ভোরের আকাশ/তা.কা

শতাব্দীবৈঠাকাটায়পিরোজপুরঐতিহ্য

শেয়ার করুন: