নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ দাবিতে ঠিকাদারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতির সিন্ডিকেট এবং ৫ থেকে ৬ শতাংশ ঘুষ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিকার এবং বিতর্কিত এই প্রকৌশলীর দ্রুত অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা।
একই সঙ্গে এবিষয়ে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টায় স্থানীয় ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ৩০ কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজের টেন্ডারের অনিয়ম প্রসঙ্গে তারা জানায়, গত জুলাই মাসে কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মোট ৯টি গ্রুপে আনুমানিক ৩০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ৮টি গ্রুপে ‘টুইন পিট টয়লেট’ নির্মাণ এবং ১টি গ্রুপে নলকূপ স্থাপনের কাজ ছিল।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) তোয়াক্কা না করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে মোট দরপত্র মূল্যের ৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। আর যারা এ অনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে পেরেছেন, তাঁদেরই নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এতে নিয়মিত ও যোগ্য ঠিকাদাররা কাজ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
মানববন্ধন ভুক্তভোগী ঠিকাদার মাহবুব হাসান বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে এই অফিসে একতরফা কর্তৃত্ব ও অনিয়ম চলে আসছে। এখনও বিশেষ একটি বলয়ের লোকজন এই অফিসে প্রভাব বিস্তার করে আছে। যে টেন্ডারগুলো হয়েছে, তাতে দেখা গেছে একই ব্যক্তি দুই থেকে তিনটি করে টেন্ডার পেয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে এসব কাজ করাচ্ছেন। আমরা এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
আরেক ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম তুহিন অভিযোগ করে বলেন, এই অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে কাজের শিডিউল নিয়ে কথা বলা যায় না। সাধারণ একটা ফাইলে সই করাতে গেলেও টাকা দিতে হয়। আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি দেখা করতে বা কথা বলতে রাজি হন না। অথচ নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকজনকে নিয়ে তিনি সারাদিন নিজ কক্ষে বসে থাকেন। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই এর সত্যতা মিলবে। ঠিকাদার আসাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৩০ কোটি টাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পে চরম অনিয়ম করা হয়েছে। আমরা যারা নিয়মিত লাইসেন্সধারী ঠিকাদার, আমরা কোনো কাজ পাইনি। অন্যদিকে আঁতাত করে এবং গোপন পার্সেন্টেজ নির্ধারণ করে পছন্দের ঠিকাদারদের আগে থেকেই রেট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে একই ব্যক্তিকে একাধিক গ্রুপের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে ঠিকাদারদের একটি প্রতিনিধি দল কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বরাবর ৮ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে জুলাই মাসের ৯টি গ্রুপের ৩০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, ৫-৬% ঘুষ লেনদেনের সত্যতা যাচাই, অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পূর্ববর্তী কর্মস্থল (সাতক্ষীরা) এর অডিট আপত্তি ও অনিয়মের নথি পর্যালোচনা এবং তাঁর নিয়মিত অফিস উপস্থিতির ডিজিটাল হাজিরা পরীক্ষার অনুরোধ জানানো হয়।
নাম প্রচারে প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী জানায় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম অফিসে নির্ধারিত সময়ে আসেন না এবং বেলা ৩টার আগেই অফিস ত্যাগ করেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত থাকাকালেও তাঁর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।
তবে টেন্ডারে অনিয়ম, ঘুষ দাবি এবং অপসারণের দাবির বিষয়ে কথা বলতে নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিল তিনি ফোনটা রিসিভ করেননি।
ভোরের আকাশ/ এনউব