বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্টে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর সিসেফ (SeaSafe) প্রকল্প।
"আসুন সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুস্রোত প্রতিরোধ করি" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে লাইফগার্ড সদস্যদের উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রদর্শনী, সচেতনতামূলক র্যালি এবং পর্যটকদের মধ্যে নিরাপদ সাগরস্নান বিষয়ক বার্তা প্রচার করা হয়।
কর্মসূচিতে সৈকত ব্যবসায়িক সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, সিআইপিআরবি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সিআইপিআরবি সিসেফ প্রকল্পের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার হাফেজ আহমেদ বলেন, যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন (আরএনএলআই) এবং প্রিন্সেস শার্লিন অব মোনাকো ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় গত ১২ বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে ১ হাজার ৪৩ জন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর কয়েক লাখ পর্যটক কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণে আসেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। এতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমার পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পেরও আরও বিকাশ ঘটবে।
সিআইপিআরবি জানায়, লাইফগার্ড সেবার পাশাপাশি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৯ হাজার শিশুকে বিনামূল্যে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৫০ লাখ পর্যটকের কাছে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে-২০২৩ অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর ২৫ জুলাই বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হচ্ছে।
সিআইপিআরবি জানায়, ২০০৫ সাল থেকে তারা পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে বিভিন্ন গবেষণা ও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সাঁতার শেখানো গেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এছাড়া ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করলে মৃত্যু ও গুরুতর শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
সংস্থাটি জানায়, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
ভোরের আকাশ/ইউএম