গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগে জরিমানা

গাজীপুরে গরুর খামারের আড়ালে আবারো ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে খামারিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন পশ্চিম শৈলডুবী এলাকায় স্থানীয় আলফাজ সরকারের একটি গোপন কারখানায় ১০টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করার প্রমাণ পায় আদালত । ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাছিবুল ইসলাম তাকে এ দন্ড দেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৯ জন কসাইকে আটকা করে পুলিশ।
ইতোপূর্বেও গাজীপুরের কয়েকটি স্থানে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থদন্ডসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শৈলডুবী এলাকার জনৈক জহিরুল ইসলাম গরুর ফার্মের আড়ালে একটি গোপন কারখানায় ১০টি ঘোড়া জবাই করে।
পরে মাংস প্রক্রিয়াজাত করার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে ১০টি ঘোড়া জবাইয়ের প্রমাণ পায়। আদালতের বিচারক তাছিবুল ইসলাম ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার অপরাধে খামার মালিক আলফাজ সরকারকে মাংস মান নিয়ন্ত্রন আইন ২০১১ এর ৮ (১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও আদায় করে।
এসময় ৬টি ঘোড়ার মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল এবং ৪টি ঘোড়া জবাইকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। জবাইকৃত ঘোড়ার ৪০০ কেজি মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন আদালত। খামার মালিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কথা স্বীকার করে ভুল মেনে নেয়ায় জরিমানা করে তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গাজীপুর সদর উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডা. এস এম হারুন অর রশীদ জানান, খামারের পাশে ৭টি জীবিত ঘোড়া বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ওইসব ঘোড়া স্থানীয় কয়েকজনের জিম্মায় দিয়ে আসে আদালত। ঘোড়া জবাইয়ের সময় ৯ জন কসাইকে আটক করেছে পুলিশ। আটক কসাইরা হলেন শাহীনুর (৩৫), আলফাজ সরকার (৪৫), সিরাজুল (৬০), করিম (৩৭), তাজরুল (২৯), ফরহাদ (৩২), নজরুল ইসলাম (৩৫), বিল্লাল মিয়া (৫২) ও রায়হান (২৫)।
ভোরের আকাশ/এসএইচ