কক্সবাজারে যৌথ অভিযানে ৫৯ অপরাধী ও ১,১৪৯ রোহিঙ্গা আটক

কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভাগটি সার্বক্ষণিক টহল ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গত ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ পদাতিক ডিভিশন পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৪৬টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
এসব অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং সদস্য, চোরাকারবারি ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ৫৯ জন অপরাধী এবং ১,১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। অভিযানকালে উদ্ধার করা হয় ৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন নাশকতামূলক সরঞ্জাম। পাশাপাশি জব্দ করা হয় ৮ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবা, ২ হাজার ৩১১ লিটার দেশীয় মদ এবং ৪৯ লিটার বিয়ারসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ইয়াবা ব্যবসায়ী মিজান (শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রুবেলের ভাই) ও রাকিবসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ৫০টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, দেশীয় মদ, বিয়ার, একটি বাইনোকুলার, চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, আটটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ইয়াবা পাচারের কাজে ব্যবহৃত হতো।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার দিকে কক্সবাজার সদর থানাধীন খুরুশকুল এলাকায় বিশেষ অভিযানে দুই সহোদর মামুন ও কায়ছারকে গ্রেফতার করা হয়। মামুনের বিরুদ্ধে ১৮টি এবং কায়ছারের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। তাদের বাড়ি তল্লাশি করে ২০টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও তিনটি ওয়াকি-টকি চার্জার উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, ৫ ফেব্রুয়ারি চন্দনাইশ উপজেলার বার্মাপাড়া এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশনে ৩৪৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে আরআরআরসি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একইভাবে ৮ ফেব্রুয়ারি উখিয়ার বালুখালী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ৭৮৪ জন রোহিঙ্গা এবং অবৈধভাবে আশ্রয়দানকারী ২০ জন বাঙালি বাড়ির মালিককে আটক করা হয়।
এদিকে, গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অনুষ্ঠিত ২২তম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ মেলা-২০২৬ উপলক্ষে বাঁশখালী আর্মি ক্যাম্প সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট ও মোবাইল টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। উক্ত মেলায় বিদেশি তীর্থযাত্রীসহ আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে জনগণ যাতে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে ১০ পদাতিক ডিভিশন বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখবে। এ ক্ষেত্রে সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই