বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ৩০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন (উফশী ও হাইব্রিড) জাতের শাকসবজির বীজ, লেবুর চারা, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সদর উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। তিনি উপকারভোগী কৃষকদের হাতে বিভিন্ন জাতের গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, লেবুর চারা, সার ও কৃষি উপকরণ তুলে দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা। এ সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বীজ, সার ও চারা বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের আবারও উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে জেলা পরিষদের সহায়তায় একটি টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। আজকের কৃষি প্রণোদনা সেই পুনর্বাসন কার্যক্রমেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষক প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন এবং দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এ ধরনের আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক কৃষকের আউশ ও আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ত্রাণ ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণে এসব কৃষককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আজ যে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে, তা শুধু নিয়মিত কৃষি প্রণোদনা নয়, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেরও একটি অংশ। ভবিষ্যতে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার কৃষকদের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ ও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি ও লেবুর আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে, পাশাপাশি উন্নত জাতের ফসল চাষে আগ্রহও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সদর উপজেলার ৩০০ জন কৃষকের মাঝে পর্যায়ক্রমে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন জাতের শাকসবজির বীজ, লেবুর চারা, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।
ভোরের আকাশ/এনউব