নোনা পানির আগ্রাসনে হুমকিতে মাতারবাড়ীর ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি

ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে গেলেও কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের উপকূলীয় জনপদে রয়ে গেছে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। সাগরের জোয়ার ও উত্তাল ঢেউয়ে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, ভেঙে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার বেড়িবাঁধ। নোনা পানি নিয়মিত লোকালয়ে প্রবেশ করায় প্রায় ৯০ হাজার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাতারবাড়ী ইউনিয়নের যাইটপাড়া, জেলেপাড়া ও আশপাশের এলাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধ সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে বসতভিটা, মাছের ঘের ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। সাময়িকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না। বর্ষার প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এসব জিওব্যাগ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
জহিরপাড়া (জেলেপাড়া) এলাকার বাসিন্দা জন্নাত আরা বেগম বলেন, প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে তাদের ঘর সম্পূর্ণ ধসে গেছে। বর্তমানে কালো পলিথিন টাঙিয়ে সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। নতুন করে ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, যাইটপাড়ার অন্তত এক কিলোমিটার অরক্ষিত বেড়িবাঁধের পাশে শত শত পরিবার চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছে। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে যাইটপাড়া ও জেলেপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা একসময় সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দীন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। আপাতত জোয়ারের পানি ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ-কে জানানো হয়েছে। সরকারি অনুমোদন মিললে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতিবছর একই সংকট তৈরি হলেও কেন এখনো স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের দাবি, উপকূলীয় জনপদের মানুষ ও জীবিকা রক্ষায় দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ভোরের আকাশ/জেআ