নাক, মুখ আর হাতে সুর
অদম্য ও অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান গাইবান্ধার শহিদুল

বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই শুধু নাক, মুখ আর হাতের ব্যবহারে যদি ভেসে ওঠে প্রিয় কোনো গানের সুর শুনতে অবাক লাগলেও গাইবান্ধায় সেটিই বাস্তব।
এমনই ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী শহিদুল ইসলাম, যিনি তার অনন্য দক্ষতায় ইতোমধ্যে জয় করে নিয়েছেন মানুষের মন।
প্রতিভা বিকাশের সুযোগ না পেলে তা হারিয়ে যাওয়ার নজির ইতিহাসে কম নয়। তবে সেই চিরচেনা ধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের স্বকীয়তা দিয়ে এগিয়ে চলেছেন শহিদুল। পেশায় তিনি শ্রম অফিসের একজন কর্মচারী হলেও পরিচিতি পেয়েছেন ‘সুরের জাদুকর’ হিসেবেই।
বাদ্যযন্ত্র কিংবা আধুনিক কোনো মিউজিক ডিভাইস ছাড়াই, কেবল নাক, মুখ ও হাতের সমন্বয়ে তিনি নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে পারেন যেকোনো গানের সুর। তার এই অদ্ভুত কিন্তু মুগ্ধকর পরিবেশনা দেখতে ও শুনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
গান শুনতে আসা যুবক রাসেল মিয়া বলেন, এভাবে নাক-মুখ দিয়ে গান বাজানো আগে কখনো দেখিনি। শুনলে সত্যিই অবাক হতে হয়, আবার খুব ভালোও লাগে।
জানা যায়, ১৯৮৪ সালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জানকিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শহিদুল ইসলাম। বর্তমানে চাকরির কারণে গাইবান্ধায় বসবাস করছেন তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই নিজের এই ব্যতিক্রমী প্রতিভার চর্চা শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে তা পরিণত করেন এক অনন্য শিল্পে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই গান ভালো লাগত। কোনো যন্ত্র ছিল না, তাই নিজেই চেষ্টা করতে করতে এভাবে সুর তোলা শিখে ফেলি। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
প্রতিভা আছে, আছে অদম্য ইচ্ছাশক্তিও। এখন প্রয়োজন শুধু সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সুযোগের। উপযুক্ত সহায়তা পেলে এই ‘সুরের জাদুকর’ হয়তো একদিন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে পারবেন তার সুরের জাদু।
ভোরের আকাশ/ র.ই