শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মায়াদ্বীপ নুনেরটেক যুগ যুগ ধরে সীমাহীন ভোগান্তি

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের রঘুনারচর, সবুজবাগ, চুয়াডাঙ্গা, টেকপাড়া, গুচ্ছগ্রামসহ ৭টি গ্রাম নিয়ে মায়াদ্বীপ নুনেরটেক একটি অবহেলিত জনপদ| নুনেরটেক মায়াদ্বীপের সাতটি গ্রামে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। 

চারদিক থেকে মেঘনা নদী বেষ্টিত হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে মায়াদ্বীপ নুনেরটেক সোনারগাঁয়ের মূল ভূখন্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। এই দ্বীপটিতে কোন রকম সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শহর বন্দরে যোগাযোগ রক্ষায় যুগ যুগ ধরে নদী পারাপারে নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। শুস্ক মৌসুমে পুরো নুনেরটেক এলাকাটি সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেঘেরা এক মনোরম পরিবেশ নয়নাভিরাম ছবির মতো ও দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ সেখানকার বসতিদের জীবন-যাপনের অনুসঙ্গ। 

নুনেরটেক মুলত কৃষিপ্রধান এলাকা হলেও সেখানে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস হল মাছ ধরা ও বিক্রি করা। সারাবছরই মৎস্য খাত থেকে তাদের বিপুল পরিমান অর্থ আয় হয়। বর্ষাকালে প্রতিটি পরিবার মাছ বিক্রি করে গড়ে ˆদনিক ২-৩ হাজার টাকা আয় করে থাকেন| ইঞ্জিনচালিত নৌকাও তাদের আয়ের আরেকটি উৎস। 

মাছ ও ধানে ভরা সবুজে ঘেরা সুখের স্বপ্ন ফেলে দ্বীপ ছেড়ে যেতে মন চায় না তাদের| তাইতো তাদের জীবন ধারার সঙ্গে সারাবছরই মেঘনার রূপালি ঢেউ আর ঝড় ঝনজাট মিলেমিশে একাকার| অপরদিকে, বর্ষায় চারদিকে মেঘনার ˆথ ˆথ জলরাশি, তীব্র স্রোত ও ঝড় তুফানে ব্যাপক ভাঙন আতঙ্কে নিদ্রাহীন রাত কাটে মায়াদ্বীপবাসীর।

প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে নদীর ঢেউ আছড়ে ভাঙনের শিকার হচ্ছে শত শত পরিবার। বাসিন্দাদের অনেকেই নানা প্রতিকূলতার কারণে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে বসতি স্থাপন করছেন। নুনেরটেকে কৃষকদের উৎপাদিত হাজার হাজার একর জমির ফসল পরিবহনে যুগ যুগ ধরে সীমাহীন ভোগান্তি আর কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

কৃষকদের দূর্ভোগ রোধে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের উৎপাদিত ফসল শহর বন্দরে পাঠাতে, পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে সড়ক যোগাযোগ ও একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের| একটি সেতুই হয়ে উঠবে নুনেরটেক মায়াদ্বীপের বাসিন্দাদের উন্নত জীবনমানের একমাত্র অবলম্বন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীর ভাঙন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবন-যাত্রায় প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের মুগ্ধতা ছড়ানো নুনেরটেক মায়াদ্বীপের মায়াই থেকে যেতে চান সেখানকার মানুষ। নুনেরটেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান শেষে অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়ে। 

তাদের ভাগ্যে জোটে না ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় কিছু হওয়ার| এখানকার মানুষের জীবন উন্নয়নে শুধু দরকার একটি বেড়িবাঁধ ও নদীর উপর একটি সেতু। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসন থেকে নির্বাচীত সাবেক সংসদ সদস্যরা নুনেরটেক মায়াদ্বীপ এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি। 

প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে মানুষের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে| স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৫ বছরে ওই এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রায় এক হাজার বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য ওসমান গনি বলেন, নুনেরটেক এলাকাটি ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ ও যাতায়াত সুবিধার জন্য মেঘনা নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি। বিগত ৩৫ বছর ধরে সোনারগাঁ থেকে নির্বাচীত সাবেক সংসদ সদস্যরা নুনেরটেক মায়াদ্বীপ ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও বাঁধ নির্মাণ হয়নি। 

আরও পড়ুন

"দুর্যোগে মানুষের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব" : রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান

বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল জানান, চারদিক নদী বেষ্টিত হওয়ায় নুনেরটেক ভৌগোলিকভাবে সোনারগাঁয়ের মূল ভূখন্ড থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছরই ভাঙ্গনের কবলে পড়ে মানুষের ফসলি জমি ও অনেক ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। 

নুনেরটেক মায়াদ্বীপের বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন| ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্যরা কয়েক দফা প্রতিশ্রুতি দিলেও অদ্যবদি নুনেরটেক রক্ষায় কেউ বাঁধ নির্মাণ করে দেয়নি। বর্তমান সংসদ সদস্যের নিকট ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য নতুন ভাবে প্রস্তাবনা দাখিল করা হবে।

ভোরের আকাশ/র ই

‎  
 

ওসমান গনি

শেয়ার করুন: