শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ২:৪১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি-ভোরের আকাশ
ছবি-ভোরের আকাশ

কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের মাঝেও কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে টেকনাফ সদরের লম্বরী, দরগাহছড়া ও মিঠাপানির ছড়াসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে এসব জেলিফিশ বালুচরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সৈকতের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অসংখ্য জেলিফিশ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সৈকতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নোমান সৈয়দ  বলেন, “সৈকতে হাঁটতে এসে আমরা দেখি অসংখ্য জেলিফিশ মরে তীরে পড়ে আছে। অনেকগুলো বেশ বড় আকৃতির। এভাবে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ মৃত জেলিফিশ ভেসে আসা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এগুলো দ্রুত পরিষ্কার না করলে পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে এবং সৈকতের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে এগুলো স্পর্শ করা নিয়ে এক ধরনের ভয়ও কাজ করছে।”

স্থানীয় জেলে আবু তালেব  জানান, বর্তমানে সাগরে মাছ ধরার সময় জেলিফিশের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। “জাল ফেললে প্রচুর জেলিফিশ আটকা পড়ে। এতে জাল ভারি হয়ে যায় এবং মাছের ক্ষতি হয়। তাই বাধ্য হয়ে জেলেরা জাল থেকে এগুলো ছাড়িয়ে সাগরে ফেলে দেন। পরে ঢেউয়ের তোড়ে এগুলো তীরে ভেসে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসান জানান , পর্যটন মৌসুমে এমন ঘটনা সামাল দিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, না হলে সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, জেলিফিশের স্বাভাবিক চলাচল ক্ষমতা খুবই সীমিত।
“এরা মূলত সাগরের স্রোতের ওপর নির্ভরশীল। মাছ ধরার সময় জালে আটকে পড়া জেলিফিশ পরে ফেলে দেওয়া হলে সেগুলো ঢেউয়ের কারণে তীরে চলে আসে।

সমুদ্রের পরিবেশগত কোনো বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি প্রতিবেদককে জানান, আপাতত তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। “যদি বড় ধরনের পরিবেশগত সমস্যা হতো, তাহলে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একযোগে মৃত জেলিফিশ দেখা যেত। এখানে নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে, যা জালে আটকে মারা যাওয়ার ঘটনাই নির্দেশ করে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলিফিশ সাধারণত উষ্ণ মৌসুমে ও পানির তাপমাত্রা বাড়লে বেশি দেখা যায়। সাগরের স্রোত, জোয়ার-ভাটা ও বাতাসের গতিপ্রকৃতির কারণে এগুলো সহজেই তীরে ভেসে আসে। অতিরিক্ত প্ল্যাঙ্কটন (ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীব) থাকলে জেলিফিশের সংখ্যা বাড়তে পারে। মৃত হলেও অনেক জেলিফিশের দেহে বিষাক্ত কোষ (nematocysts) সক্রিয় থাকতে পারে, তাই খালি হাতে স্পর্শ না করাই নিরাপদ। সৈকত এলাকায় দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ না ঘটে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান জানান, সৈকতের পরিবেশ রক্ষায় মৃত জেলিফিশগুলো দ্রুত সরিয়ে নেয়া হবে৷

ভোরের আকাশ/নি

কক্সবাজারজেলিফিশ

শেয়ার করুন: