সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর ধারাবাহিক চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দস্যু বাহিনীটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৬টার দিকে মোংলার ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা আত্মসমর্পণ করে।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের সময় দস্যু দলটির কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হ্যামার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড পিস্তল বল, পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা ও ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা। পাশাপাশি চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার জাহাঙ্গীর মোড়ল (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬)।
এ ছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) এবং বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার আজিজুর রহমান (৪৫) আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র জানান, এর আগে বিশেষ অভিযানে ২৯ জন বনদস্যুকে গ্রেপ্তার ও জিম্মি থাকা ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এর আগে ছোট সুমন, বড় জাহাঙ্গীর ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩৭ জন বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা অস্ত্র হস্তান্তর ও আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট দস্যু বাহিনীগুলোকে জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ভোরের আকাশ/সু.পা