বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেবে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষের পুনর্বাসনে জেলা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বিশেষ করে বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়েও উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) দেওয়া প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভার শুরুতে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভবিষ্যতে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন প্রশাসক। তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মকর্তারা সভায় অংশ নিতে আসেন। তাই নির্ধারিত সময় মেনে সভা পরিচালনা করা সবার দায়িত্ব।
মাহবুবের রহমান শামীম আরও বলেন, জেলা পরিষদের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় মাঠ প্রশাসনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউএনওরা সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করেন এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান, দুর্যোগ মোকাবিলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তাঁদের ভূমিকা অপরিহার্য। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় উন্নয়নের সুফল দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
তিনি ইউএনওদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আন্তরিকতা ও দক্ষতার মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা সহজেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রশাসক বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। কোনো ধরনের অনিয়ম শেষ পর্যন্ত গোপন থাকে না, তাই সবাইকে দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভার সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদ কাজ করবে। একটি সমন্বিত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা পরিষদকে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে সরাসরি জানাতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সভায় উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরফাত, সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. খালেকুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনিছ উদ্দিনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/রই