লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকের ভোগান্তি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের জন্য ২৭ হাজার টাকা জমা দিয়েও চার মাস ধরে অপেক্ষা করছেন মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী নামে এক গ্রাহক।
১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে খুঁটি স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে কয়েক মাস অতিবাহিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে শ্রমিকসংকটের কথা জানানো হলেও কবে নাগাদ খুঁটি স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাননি তিনি। আনোয়ার হোসেন চৌধুরী উপজেলার আমিরাবাদ মাস্টারহাট এলাকার মৃত ইউসুফ আহমদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি পেশায় বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। তাঁর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। পারিবারিক ভিটেবাড়ির জায়গা ভাগবণ্টনের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য নিজ জায়গায় নতুন খুঁটি স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেয়। আনোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিয়ম মেনে তিনি লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে খুঁটি স্থাপনের জন্য আবেদন করেন। এরপর প্রায় তিন বছর ধরে একাধিকবার অফিসে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান পাননি। ২০২৬ সালে লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, আগের আবেদনের কোনো নথি অফিসে সংরক্ষিত নেই। এ ছাড়া ওই সময় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কেউ এখন আর সেখানে কর্মরত নেই। ফলে তাঁকে নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়।
এরপর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ৭ জুন নতুন করে আবেদন করেন। ১৭ জুন ক্যাশ রিসিভ ভাউচারের মাধ্যমে ২৭ হাজার টাকা জমা দেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে খুঁটি স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে চার মাসের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও খুঁটি স্থাপন করা হয়নি। আনোয়ারের অভিযোগ, এ বিষয়ে একাধিকবার ডিজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে শ্রমিকসংকটের কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু এ সংকট কবে কাটবে এবং কবে খুঁটি স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। নিজের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে আনোয়ার বলেন, তিনি একজন মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী। কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও সংসারের ব্যয় সামলাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ধারদেনা করে খুঁটি স্থাপনের জন্য টাকা জোগাড় করেও প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, অতীতে বিনা মূল্যে খুঁটি স্থাপনের সুযোগ থাকার সময়ও আবেদন করেও তিনি খুঁটি পাননি।
এবার টাকা জমা দেওয়ার পরও নানা কারণে কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে। এ বিষয়ে লোহাগাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে লোহাগাড়ায় অনেক আবেদন জমে রয়েছে। শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্ব ঠিকাদারের এবং সংশ্লিষ্ট কাজটিও ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোহাম্মদ সরওয়ার জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে লোহাগাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এদিকে, আবেদন ও নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার পরও সময়মতো বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নির্ধারিত সময়ে খুঁটি স্থাপন না হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
ভোরের আকাশ/ এনউব