ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সব নাগরিকের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। মসজিদ, মন্দির ও বৌদ্ধবিহারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও পরিষদের সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করছেন। দেশের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে এই সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের কাতালগঞ্জ নব পণ্ডিত বিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন, উপাসনা এবং ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। এসব অধিকার সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক অধিকার ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মীয় কিংবা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে জেলা পরিষদকে অবহিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। পরিষদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
কাতালগঞ্জ নব পণ্ডিত বিহারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, প্রতিষ্ঠানটির একটি উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘ চার বছরেও সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শামীম বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গাপূজা উদ্যাপনের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পালনকালে বিভাগের বিভিন্ন জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় করতে হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবগুলো যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করা হয়েছে।
তিনি সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নব পণ্ডিত বিহারের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. উপানন্দ মহাথেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সঞ্চালনা করেন বিজয় বড়ুয়া বাপ্পা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহসভাপতি কমলেন্দু বিকাশ বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. সুব্রুত বরণ বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ চট্টগ্রামের সভাপতি প্রকৌশলী পরিতোষ কুমার বড়ুয়া এবং সহসভাপতি অঞ্চল কুমার তালুকদার।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিনয় ভূষণ বড়ুয়া, ড. দীপকর শ্রী জ্ঞান বড়ুয়া, স্বদেশ কুমার চৌধুরী, কাগজ কান্তি বড়ুয়া, মানস কুমার বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়া, প্রণব রাজ বড়ুয়া, সমীরণ বড়ুয়া, প্রকৌশলী ঝুলেন বড়ুয়া, শুভাশীষ বড়ুয়া ও সৌমেন বড়ুয়াসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ভোরের আকাশ/সু.পা