তেরখাদার ৬টি ইউনিয়নের মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে

খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আওতায় ৬ টি ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে প্রকাশ প্রতিমাসে সরকারি ছুটি(শুক্রবার ব্যতীত) ২৬ দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ০ থেকে ০১ বছরের শিশু ও ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র নির্ধারিত শিডিউলে টিকা প্রদানের দিন ছাড়া বকাকি দিনগুলি অনুপস্থিত থেকে সরকারি বেতন আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। তাদের প্রতিমাসের নির্ধারিত মাসিক কর্মসূচী অনুযায়ী মা ও শিশুকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্যে ৬ টি ইউনিয়নে ১৪৪টি টিকাদান কেন্দ্র ও ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।
স্বাস্থ্য সহকারীদের টিকা প্রদান ছাড়া ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদানের কথা থাকলেও এরা টিকা দানের দিন ছাড়া বাকি দিনগুলি হাজির হন না। স্বাস্থ্য সহকারীদের ফিল্ড পর্যায়ে তদারকির জন্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা, রোগ নিয়ন্ত্রন মেডিকেল অফিসার এম ও ডি সি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির সুপারভাইজার স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্যানেটারী পরিদর্শক ও ই পি আই টেকনিশিয়ানদের ফিল্ডে তদারকির কথা থাকলেও এরা আদৌ কোনদিন ৬ টি ইউনিয়নের ১৪৪ টি টিকা দান কেন্দ্র ও ১৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে শুধু হাসপাতাল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবার দিকে খেয়াল না থাকায় মাঠ পর্যায়ে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। ইতিমধ্যে মাসিক সভায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের প্রতিনিধি যোগদান করায় তেরোখাদার মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্যে যেসব ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মী নেই সে সমস্ত ওয়ার্ডসহ ২ টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা চিঠি ইস্যু করে দুটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিলেও চিঠিতে রয়েছে অনিয়ম। স্যানিটারী পরিদর্শক পাশকরা একজন স্বাস্থ্য সহকারী রয়েছে যিনি এখনো স্যানিটারী দায়িত্ব পাননি, তার স্বাস্থ্য সহকারীর দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তাকে ফিল্ডের কোন দায়িত্ব না দিয়ে শুধু বাজার কালেকশনের দায়িত্ব দিয়েছেন। অথচ কাগজ পত্রে ই পি আই সিডিউলে বারাসাত ৩ নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারীর দায়িত্ব থাকলেও নতুন চিঠিতে তাকে কোন স্বাস্থ্য সহকারী অথবা তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এ নিয়ে অন্যান্য স্বাস্থ্য সহকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর অভ্যন্তরে মাঠ পর্যায়ের সেবা কার্যক্রমের জন্যে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের জন্যে একটি কার্যালয় থাকলেও বছরের পর বছর তা রয়েছে তালা বদ্ধ। অথচ একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক প্রতিদিন তার কার্যালয়ে হাজিরা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা তার খেয়াল খুশি মত মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিচালনা করছেন। তিনি শুধু একটি চিঠি করে দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডঃ মুজাহিদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান একেত তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মী সংকট তার উপর আমার নির্দেশ তারা মানেন না। কাজের কথা কঠোরভাবে বললে তারা দল বেধে সাংবাদিকের কাছে গিয়ে আমার কথা উলটা পালটা বুঝায় যার কারনে সাংবাদিক আমাকে ফোন করেন। তিনি মাঠ পর্যায়ের কাজের পরিদর্শনের কথা প্রসঙ্গে জানান সরকার আমাদের ফিল্ড ভিজিট করার জন্যে কোন তেলের টাকা দেন না।
এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি নাজমুস সাকিব সজিব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবার কথা আমরা জানতে পেরেছি। আমি দ্রুত এ ব্যাপারে খুলনার সিভিল সার্জন মহোদয়কে অবহিত করবো।
ভোরের আকাশ/ এনউব