১৫.২০ একর জমি বাফুফেকে বুঝিয়ে দিল জেলা প্রশাসন

কক্সবাজারের রামুতে ফিফার অর্থায়নে দেশের প্রথম আধুনিক ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের পথ খুলেছে। পাঁচ বছরের জমি জটিলতা, পরিবেশগত আপত্তি ও প্রশাসনিক নানা প্রক্রিয়ার বাধা পেরিয়ে প্রকল্পটির জন্য ১৫ দশমিক ২০ একর খাসজমি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) বুঝিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার(৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে জমি রেজিস্ট্রির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, দেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রামুতে নির্মিতব্য টেকনিক্যাল সেন্টারে জাতীয় পুরুষ ও নারী দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের উন্নয়নে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রটি চালু হলে দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের স্থায়ী ফুটবল প্রশিক্ষণ অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে দেশীয় ফুটবলারদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির পথ আরও সুগম হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ফুটবলার ও ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। প্রায় ৮৮ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও বাফুফের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমি রামু উপজেলার রশিদনগরে অবস্থিত। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বাফুফে সভাপতির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্পের নির্ধারিত জমি পরিদর্শন করে।
ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকনিক্যাল সেন্টারটি চালু হলে দেশি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।
২০২২ সালে ফিফার নির্বাহী কমিটি বাংলাদেশে একটি টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই শেষে কক্সবাজারের রামুকে প্রকল্পের জন্য নির্ধারণ করা হয়। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হলো।
ভোরের আকাশ/ এনউব