শিশু সাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে বাকপ্রতিবন্ধী শিশু সাকিব শিকদারকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ এক বছর আট মাস পর অবশেষে মূল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পিবিআই নারায়ণগঞ্জের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামী সিয়ামকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়েছে।
পিবিআইর পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ৪ এপ্রিল দুপুরে আড়াই হাজারের পাঁচরুখী এলাকায় নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন সকালে আসামীর চাচা জাকিরের গোয়ালঘরের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় সাকিবের লাশ। এ ঘটনায় সাকিবের মা তানিয়া আক্তার অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারসের নির্দেশে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ হযরত আলীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, গোপন অনুসন্ধান এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করে গত ৮ ডিসেম্বর বিকেলে আড়াইহাজার থানাধীন বান্টিবাজার এলাকা থেকে মূল আসামী সিয়ামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ঘুড়ির সুতা কেনা এবং ব্লেড নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে উত্তেজিত হয়ে সিয়াম ১১ বছরের সাকিবকে ধাক্কা দিলে সে মাটিতে পড়ে মাথায় আঘাত পায় এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর সিয়াম মৃতদেহ লুকাতে তার চাচার গোয়ালঘরে নীল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখে। পুরো এলাকা খোঁজাখুঁজি করেও শিশুকে না পাওয়ায় পরিবার ও স্বজনরা রাতে ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে সিয়াম মৃতদেহটি টেনে বাইরে এনে কোণায় ফেলে রাখে, যাতে এটি হত্যাকাণ্ড বলে না মনে হয়।
পরবর্তীতে সিয়াম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করায় তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পিবিআই জানায়, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তে তা প্রকাশ পাবে।
ভোরের আকাশ/জাআ