সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, স্বল্প মেয়াদী বন্যার আশঙ্কা

দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হাওর ও পর্যটন সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি।
এতে করে জেলায় স্বল্প মেয়াদী বন্যার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। গত শনিবার রাতে জেলায় বৃষ্টি কিছুটা কম হলেও রবিবার দিনে হালকা ও রাতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে করে জেলার বেশিরভাগ নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, আজ (১৩ জুলাই) সোমবার ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে, জেলার প্রধান সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ০৭ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ৭৫ মি. মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ) মো. এমদাদুল হক, তিনি আরও জানিয়েছেন, জেলায় এ বছরের সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ২৭৫ মি.মি.।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা এলাকায় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে। ফলে জেলা সদরের সাথে, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ আগত পর্যটকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে আজ বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, ওই এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্বল্প মেয়াদী বন্যার আশঙ্কায়, দেশের নানা প্রান্ত থেকে সুনামগঞ্জের হাওরে আসা পর্যটকদের হাওরাঞ্চলের পর্যটন স্পট ভ্রমণে, সতর্কতার সঙ্গে নৌ পরিবহনে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জ জেলা এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি এলাকায় অতি বৃষ্টির ফলে সুরমা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জেলার হাওরাঞ্চল ও নদীপথে নৌযান চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে।
এ অবস্থায় পর্যটকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব হাউসবোটের মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৭টি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনাগুলো হচ্ছে- আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া অথবা নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করলে কোনো অবস্থাতেই পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা যাবে না। প্রতিটি হাউসবোটে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং এবং অন্যান্য জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাওরে যাত্রা শুরুর আগে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বা স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে হাউসবোট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/র.ই