গান নিয়ে প্রয়াত শিল্পী রাজা মিয়ার পরিবার ও শিমুল হাসানের পাল্টা অভিযোগ

গাইবান্ধার প্রয়াত জনপ্রিয় লোকবাউল শিল্পী রাজা মিয়ার সৃষ্টি ‘প্রেমের কি নাম দিব’ গানটি নিজের নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে বাউলশিল্পী শিমুল হাসানের বিরুদ্ধে। প্রয়াত শিল্পীর মেয়ে রুজিনা বেগমসহ তাঁর অন্য সন্তানরা এ অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে শিমুল হাসান দাবি করেছেন, গানটি মূলত রাজা মিয়ার লেখা হলেও পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে গানটি ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধা শহরের থানা পাড়ায় নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাজা মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে রুজিনা বেগম বলেন, তাঁর বাবা রাজা মিয়া গাইবান্ধার একজন জনপ্রিয় লোকবাউল শিল্পী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে তাঁর একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি অসংখ্য গান রচনা ও পরিবেশন করেন। ১৯৯৮ সালে তাঁর মৃত্যু হলে স্ত্রী ও পাঁচ কন্যাসহ পরিবারের সদস্যদের রেখে যান তিনি।
রাজা মিয়ার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘প্রেমের কি নাম দিব’ অন্যতম বলে দাবি করেন তাঁর মেয়েরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গানটি নিজের নামে প্রচার করে আসছেন বাউলশিল্পী শিমুল হাসান। বিষয়টি তাঁকে একাধিকবার জানানো হলেও গানটির প্রচারে রাজা মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের বাবার সৃষ্ট গানটির প্রচার ও ব্যবসায়িক ব্যবহারের অনুমতি ‘ফোক বাংলা এন্টারটেইনমেন্ট’-কে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে গানটির প্রচার ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তাঁদের অভিযোগ, এরপরও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে গানটি রাজা মিয়ার নাম বাদ দিয়ে শিমুল হাসানের নামে প্রচার করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রাজা মিয়ার মেয়েরা গানটি প্রচারের সময় তাঁদের বাবার নাম যথাযথভাবে উল্লেখ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে যেসব প্ল্যাটফর্মে রাজা মিয়ার নাম ছাড়া শিমুল হাসানের নামে গানটি প্রচার করা হচ্ছে, সেসব প্ল্যাটফর্ম থেকে তা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে বাউলশিল্পী শিমুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গানটি মূলত রাজা মিয়ার লেখা। তবে গানটি কিছুটা সংশোধন করে তিনি নিজের কণ্ঠে পরিবেশন করেছেন বলে জানান তিনি।
শিমুল হাসানের দাবি, ২০২০ সালে তাঁর কণ্ঠে গানটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। পরে ২০২৫ সালে গাইবান্ধা কালচারাল অফিসের মাধ্যমে তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর রাজা মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, ওই সময় পরিবারের পক্ষ থেকে গানটি নিয়ে আর কোনো দাবি-দাওয়া নেই বলে জানানো হয়েছিল।
শিমুল হাসান আরও দাবি করেন, এখন তিনি জানতে পেরেছেন রাজা মিয়ার পরিবার গানটি অন্য জায়গায় বিক্রি করে দিয়েছে। এ বিষয়েও তাঁর প্রশ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজা মিয়ার পরিবারের অভিযোগ ও শিমুল হাসানের বক্তব্যের পর ‘প্রেমের কি নাম দিব’ গানটির স্বত্ব, প্রচার ও ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টির সুরাহায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা অথবা প্রয়োজন হলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গানটির স্বত্ব ও ব্যবহারের অধিকার নির্ধারণের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা