অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক পরিচালিত অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিষয়ক বিভাগীয় সেমিনার ও কর্মশালা বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়, ময়মনসিংহের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষ ।
সেমিনারে অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর বিভিন্ন তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা। উপস্থাপনায় জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি অর্থনৈতিক ইউনিট শনাক্ত করা হয়েছে, যা ২০১৩ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ৬২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫৭টি, অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯৬৯টি এবং অর্থনৈতিক পরিবারভিত্তিক ইউনিট ৪৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৬টি।
উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে সেবা খাতের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি, যা মোট ইউনিটের প্রায় ৯০ শতাংশ। অপরদিকে শিল্প খাতের অংশ মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ। পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য খাত ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ নিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এর পরেই রয়েছে পরিবহন ও সংরক্ষণ খাত, উৎপাদনশীল শিল্প এবং আবাসন ও খাদ্যসেবা খাত।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আধিপত্য স্পষ্ট। মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ মাইক্রো শিল্প এবং ৩৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ কুটির শিল্প। মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
ময়মনসিংহ বিভাগ সংক্রান্ত উপস্থাপনায় জানানো হয়, বিভাগে মোট ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৬টি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৫টি, জামালপুরে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২২৪টি, নেত্রকোনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৩টি এবং শেরপুরে ১ লাখ ৭ হাজার ৮৭৪টি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে।
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়, ময়মনসিংহ বিভাগে মোট ১৬ লাখ ৭০ হাজার ৯৩ জন ব্যক্তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকায় এবং ৩৫ শতাংশ শহরাঞ্চলে কর্মরত।
আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ময়মনসিংহ বিভাগের তুলনামূলক কম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়নের ধীরগতি, বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা, ই-কমার্সে নগদ লেনদেনের আধিক্য এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পনির্ভর অর্থনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা ময়মনসিংহ বিভাগে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি জেলা ও বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা এবং অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ তুলে ধরেন।
ভোরের আকাশ/এনএস