কিশোরগঞ্জ শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি"

কিশোরগঞ্জে ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন, কিশোরগঞ্জ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
পুলিশ সুপার ট্রাফিক বিভাগের কর্মরত অফিসার ফোর্সদের পেশাদারিত্ব এবং সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে বলেন। জনগণের সাথে কোনোভাবেই অপেশাদার বা রুক্ষ আচরণ করা যাবে না। প্রতিটি পদক্ষেপে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
বিশেষ করে অফিস আওয়ার এবং স্কুল-কলেজ ছুটির সময়ে পয়েন্টগুলোতে কোনোভাবেই পোস্ট খালি রাখা যাবে না।
ডিউটিরত অবস্থায় কোনো সদস্য কোন প্রকার অবৈধ লেনদেন বা চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে না পড়েন সে বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
রাস্তার মোড়ে বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কোনো যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। যানজট নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
আইনের চোখে সবাই সমান। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কোনো দ্বিধা করা যাবে না।
গত দুপুর ১৪:০০ ঘটিকায় পুলিশ লাইস্ মাঠে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সাথে শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
শহরবাসীর প্রতি পুলিশ সুপারের বিশেষ বার্তা শহরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সুপার নাগরিকদের প্রতি পরিষ্কার এবং কঠোর বার্তা দিয়েছেন:
"আপনার সচেতনতাই পারে একটি যানজটমুক্ত শহর উপহার দিতে। আইন মেনে চলা আপনার দায়িত্ব, আর আইন মানানো আমাদের কর্তব্য।"
চালকগণ বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া রাস্তায় নামলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোটরসাইকেল আরোহী এবং সহযাত্রী উভয়ের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক। চার চাকার যানের ক্ষেত্রে সিটবেল্ট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
যানজট এড়াতে অনেক সময় উল্টোপথে গাড়ি চালানোর প্রবণতা দেখা যায়। এখন থেকে উল্টোপথে গাড়ি চালালে বড় অংকের জরিমানাসহ গাড়ি জব্দ করা হবে।
সাইলেন্স জোন (হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকা) এবং যানজটে আটকা থাকা অবস্থায় উচ্চশব্দে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা বা রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করলে কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই রেকারিং করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার শহরবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, পুলিশ কেবল শাস্তিদাতা নয়, বরং সেবক হিসেবে কাজ করতে চায়। তবে শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রকার আপোষ করা হবে না। পুলিশ সুপার সূত্র জানা গেছে এই কঠোর অভিযান কার্যকর গতকাল থেকে শুরু হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব