হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে, আক্রান্ত ৪ হাজার

হবিগঞ্জে হামের প্রকোপ প্রতিনিয়ত মারাত্মক রূপ নিচ্ছে, যার ফলে এ বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে মঞ্জুরীকৃত মাত্র বিশটি শয্যার বিপরীতে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি, অর্থাৎ মোট একশত পনেরো জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ধারণক্ষমতার বাইরে রেকর্ডসংখ্যক রোগী আসায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে আজ সোমবার পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে এখানে সর্বমোট তিন হাজার নয়শত সাতাশি জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন হাজার সাতশত একষট্টি জন।
এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে একশত তিনজন রোগীকে। হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে বেশিরভাগ রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও সিঁড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, শয্যা সংকটের কারণে গাদাগাদি করে মেঝেতে থাকতে হলেও ডাক্তার ও নার্সদের সময়মতো পাওয়া যায় না। সামান্য বিষয়েও নার্সদের জিজ্ঞেস করলে তারা দুর্ব্যবহার করেন এবং হাস্পাতাল থেকে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার পরিবর্তে অধিকাংশ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনার জন্য স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সেবার ঘাটতির কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার জানান, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অতিরিক্ত পরিশ্রম করছেন। তবে সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক সময় শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠছে না। হাম প্রতিরোধে তিনি জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোরের আকাশ/আ.র