ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন

দান, শীল ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। শুক্রবার দিনব্যাপী শহরের ঐতিহাসিক য়ংড বৌদ্ধ বিহারের ১২১তম এবং ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের ৩২তম কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে দুই বিহারেই সমবেত হন বিপুলসংখ্যক দায়ক-দায়িকা ও পুণ্যার্থী।
সকাল থেকেই বিহার প্রাঙ্গণে শুরু হয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, কঠিন চীবর দান, পঞ্চশীল গ্রহণ, কল্পতরু দান ও ধর্মসভাসহ নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে বিহার প্রাঙ্গণ। পুণ্য লাভের আশায় নানা বয়সী নারী-পুরুষ দান ও প্রার্থনায় অংশ নেন।
ঐতিহাসিক য়ংড বৌদ্ধ বিহারের ১২১তম কঠিন চীবর দানোৎসবে সভাপতিত্ব করেন অপরাজিতা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ মিহিন্দা মহাস্থবির,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা। অন্যদিকে ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের ৩২তম কঠিন চীবর দানোৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ও শিষ্য সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।
এ সময় ধর্মপুর আর্য্য বন বিহারের অধ্যক্ষ ভদ্দজী মহাথেরোসহ বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মসভায় ভিক্ষুসংঘ কঠিন চীবর দানের ধর্মীয় তাৎপর্য, বৌদ্ধধর্মের শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব এবং মানবজীবনে দান ও নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, কঠিন চীবর দান শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ত্যাগ, সংযম, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, দান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
ভোরের আকাশ/ এনউব