তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে উজ্জীবিত দিনাজপুরের নেতাকর্মীরা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে উৎসব ও আনন্দের জোয়ার বইছে। এ উপলক্ষে আনন্দ ও শুভেচ্ছা মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর বীরের বেশে মাতৃভূমিতে পা রাখতে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর এই রাজকীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে গোটা দেশ উৎসবমুখর পরিস্থিতির অপেক্ষায়।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দান থেকে কর্মসূচি সফল করতে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ দল মত নির্বিশেষে জনগণের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শুভেচ্ছা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে সমাবেত হয়।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষ বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের মাটিতে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এই দিনাজপুরের কন্যা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে দিনাজপুর শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সামরিক কর্মজীবনের কারণে তাঁদের বিয়ের পর অনেকটা সময় দিনাজপুরেই কেটে গেছে। এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মও এই দিনাজপুর শহরেই হয়েছে বলে জানা যায় । তারেক রহমান বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণে প্রায় দেড় যুগ ধরে বিদেশে নির্বাসনে কাটিয়েছেন। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশের মাটিতে ফিরে আসার বার্তায় দিনাজপুরবাসী উজ্জীবিত।
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মো. মোকাররম হোসেন জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করবে ইনশাআল্লাহ। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে সারা দেশের মতো দিনাজপুর থেকেও হাজার হাজার নেতাকর্মীরা রাজধানীতে সমবেত হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিসালাত হোসেন সজীব বলেন, আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দেশের মাটিতে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি এবং অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
তারেক রহমানের আগমণ বার্তায় দিনাজপুরসহ সারা দেশে সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানাতে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় গতকাল সোমবার থেকে মঙ্গলবার আনন্দ মিছিল চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত দেশের প্রাচীনতম সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুর। এ জেলায় তারেক রহমানের মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব-কৈশোর কেটেছে এবং এখানেই পড়াশোনা করেছেন। শহরের ঘাসিপাড়ায় ‘মাতৃছায়া’ বাড়িতে তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দিনাজপুরের মাটিতে ফরিদপুর গোরস্তানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বেগম খালেদা জিয়ার পিতা ও তারেক রহমানের নানা ইস্কান্দার মজুমদার ও নানী তৈয়বা মজুমদার, বড় খালা সাবেক মন্ত্রী বেগম খুরশিদ জাহান হক।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে এখানে হার্ট ফাউন্ডেশন ও হাসপাতাল এই এলাকায় চিকিৎসা সেবায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এছাড়া তাঁর বড় খালা খুরশিদ জাহান হকের নামে কিডনি ও ক্যানসার হাসপাতাল, নানির নামে তৈয়বা মজুমদার ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে তেমন কোনো উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ প্রসারিত করা সম্ভব হয়নি। দিনাজপুরবাসীর প্রত্যাশা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে। সে সঙ্গে দিনাজপুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নগরী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করবে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ