কুষ্টিয়ায় অসুস্থ ভাইকে হত্যার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ

কুষ্টিয়া শহরের ১৪ অম্বিকা চরণ মুখার্জী রোড এলাকার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাই ও বোনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোখলেছুর রহমান (৬২) কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড় সংলগ্ন সালাউদ্দিন টাওয়ারের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার ভাই মাহাবুবুর রহমান (৬৪) ও বোন লাইলা বিলকিছ বানু (৫৯) হঠাৎ করে তার বাসায় প্রবেশ করে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ শুরু করেন। এ সময় বাসায় থাকা মাজেদা পারভীন তাদের বাধা দিলে লাইলা বিলকিছ বানু তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।
একই সময়ে মাহাবুবুর রহমান মোখলেছুর রহমানকে কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন, যদিও তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হাঁটাচলার জন্য ব্যবহৃত মোখলেছুর রহমানের ওয়াকার কেড়ে নিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলা হয়। এক পর্যায়ে মাহাবুবুর রহমান রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো বটি এনে তার গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় বাসায় থাকা মোখলেছুর রহমানের পালিত মেয়ে চিৎকার করে ভবনের ইন্টারকমের মাধ্যমে নিচে থাকা কেয়ারটেকারকে খবর দেন। পরে কেয়ারটেকার দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। ঘটনার সময় মাজেদা পারভীন আহত হলে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় অভিযুক্তরা তাকে এবং ঢাকায় অবস্থানরত তার স্ত্রী ও সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহাবুবুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অপর অভিযুক্ত লাইলা বিলকিছ বানুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান ফোনটি রিসিভ করেন।
তিনি বলেন, “অভিযোগ হোক, মামলা হোক, মোকদ্দমা হোক আমরা আইনের মাধ্যমে জবাব দেব।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভোরের আকাশ/ র.ই