বিয়ের ১০ দিনের মাথায় প্রবাসীর মৃত্যু, নববধূ হাসপাতালে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের মাত্র ১০ দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইয়ামিন মিয়া (৩০) নামে এক সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নববধূ সুমা আক্তার (১৮)।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ভাদুঘর হুজুরবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়ামিন মিয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামের মৃত আবুল বাশার ভুঁইয়ার ছেলে। তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ইয়ামিন নববধূকে নিয়ে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের আটলা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে ভাদুঘর হুজুরবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে একটি বালুবাহী ট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়ামিন ও সুমাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়ামিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের চাচা নওশাদ হোসেন জানান, গত ৮ জুলাই ইয়ামিন বিয়ে করতে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। দেশে আসার আগেই পারিবারিকভাবে তাদের কাবিন সম্পন্ন হয়েছিল। পরে ১৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৫ জুলাই ‘পান-ফুল’ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যান তিনি। সোমবার বিকেলে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন।
তিনি বলেন, “বিয়ের মাত্র ১০ দিনের মাথায় এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। পুরো পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকে স্তব্ধ। হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।”
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এম