শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু, বাড়ছে বাজারে সরবরাহ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

দীর্ঘ তিন মাস ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত থেকে মাছ শিকার, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর নৌকা ও জাল নিয়ে হ্রদে নামতে শুরু করেছেন জেলেরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাঙামাটির বিভিন্ন ল্যান্ডিং ঘাটে আসতে শুরু করে মাছ। একই সঙ্গে চালু হয়েছে বরফকল। ব্যস্ততা বেড়েছে মাছ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদেরও।

তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দফায় ধরা পড়া মাছের আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রত্যাশার পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। তাদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হ্রদের পানি কমতে শুরু করলে বড় আকারের মাছের সরবরাহ বাড়বে। এতে ব্যবসায়ও গতি ফিরবে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে রাঙামাটির চারটি ল্যান্ডিং ঘাটে জেলেদের নৌকা ভিড়তে দেখা যায়। মাছ নামানো, বাছাই, ওজন ও বাজারজাতকরণ ঘিরে ঘাটগুলোতে ব্যস্ততা তৈরি হয়। মাছের সরবরাহ শুরু হওয়ায় শহরের বিভিন্ন বাজারেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে।

কাপ্তাই হ্রদের কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও পোনা মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও মাছের প্রজনন, পোনার বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে মাছ শিকার, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।

নির্ধারিত তিন মাস ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার মধ্যরাত থেকে তা প্রত্যাহার করা হয়। এতে দীর্ঘদিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকা হ্রদনির্ভর জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাছ আহরণ শুরু হওয়াকে তারা জীবিকা ফেরার নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

কাপ্তাই হ্রদ বৃহত্তর ব্যবসায়ী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর বলেন, দীর্ঘ সময় পর মাছ শিকার শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আবার কাজে ফিরেছেন। তবে শুরুতে মাছের আকার ছোট হওয়ায় পরিবহন, বরফ ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন খরচ তুলে লাভ করা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে মাছ আসছে তার আকার তুলনামূলক ছোট। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ মেটানো কঠিন হতে পারে। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজার ভালো থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। কয়েক দিনের মধ্যে মাছের আকার বড় হলে ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাঙামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই রাঙামাটি বিএফডিসির অবতরণ ঘাটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ এসেছে। জেলেরা স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ করছেন ও ল্যান্ডিং কার্যক্রমও চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে মাছের আকার কিছুটা ছোট হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা বাড়তে পারে। হ্রদে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় বড় মাছ তুলনামূলক কম ধরা পড়ছে। পানি কমতে শুরু করলে বড় মাছের উপস্থিতিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিক টন মাছ অবতরণ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ অবতরণের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মাছ অবতরণ হলে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছের সরবরাহ আরও বাড়বে। এর সঙ্গে জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, শ্রমিক, বরফকলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

নেছারাবাদে সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে থাকা নিষেধ

ইতোমধ্যে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় রাঙামাটির বাজারগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে আগামী দিনের ব্যবসা অনেকটাই নির্ভর করবে মাছের আকার, বাজারদর এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান বাজারগুলোর চাহিদার ওপর।

দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় একদিকে জেলেদের কর্মসংস্থান ফিরেছে, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় মাছের প্রজনন ও পোনা বৃদ্ধির যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার সুফল আগামী মৌসুমে কতটা পাওয়া যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের ফলে ভবিষ্যতে হ্রদে মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে।

ভোরের আকাশ/জেআ

রাঙামাটিকাপ্তাই হ্রদ

শেয়ার করুন: