মাঝরাতে আগুনে ছাই সিনেমা হলসহ ২০ দোকান

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হলসহ অন্তত ২০টি দোকান পুড়ে গেছে। আগুনে এলপিজি সিলিন্ডারের গুদাম, ডেকোরেশন সামগ্রীর দোকান ও পুরোনো কাপড়ের দোকানসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঝলমল সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগুনে সিনেমা হলসংলগ্ন একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিনেমা হলের পাশের এলপিজি সিলিন্ডারের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাতের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও আগুনের ভয়াবহতার কারণে অনেক দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে দোকানের মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুড়ে গেছে। অনেকের দীর্ঘদিনের ব্যবসার পুঁজি এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পৌর শহরের একটি পুরোনো ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ঝলমল সিনেমা হল পরিচালিত হয়ে আসছিল। একসময় এটি গৌরীপুরের মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। সময়ের সঙ্গে সিনেমা হলের ব্যবসায় পরিবর্তন এলেও স্থানীয়দের কাছে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্মৃতি এখনও রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, শুধু একটি সিনেমা হল নয়, আগুনে গৌরীপুরের পুরোনো একটি স্মৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে মোট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শেষে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
আগুনের সূত্রপাত, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ভোরের আকাশ/ এনউব