ধরলার ভাঙনে বিলীন জনপদ, স্মৃতি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে সেতু

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের চর ধনিরাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো সেতু। একসময় স্থানীয় মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল এটি। সেতুটির ওপারে ছিল একটি আশ্রয়কেন্দ্র। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা বন্যার সময় আশপাশের মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতেন। আশ্রয়কেন্দ্রটির পাশাপাশি ওই এলাকায় ছিল অসংখ্য বসতবাড়ি ও আবাদি জমি।
তবে ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় বদলে যায় পুরো এলাকার চিত্র। ধরলা নদীর ভাঙনে সেতুটির দুই পাশের মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে সেতুটিও দেবে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদীর করাল গ্রাসে আশ্রয়কেন্দ্রসহ একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। হারিয়ে যায় বিস্তীর্ণ আবাদি জমিও।
এরপর থেকে সেতুটির আর কোনো ব্যবহারিক গুরুত্ব নেই। সেতু পার হয়ে ওপারে গেলে এখন আর চোখে পড়ে না কোনো বসতবাড়ি কিংবা আবাদি জমি। ফলে সেতুটিও আর সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা সেতুটি এখন যেন হারিয়ে যাওয়া একটি জনপদের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বর্তমানে চরাঞ্চলে গরু-ছাগল চরাতে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে যাওয়া কিছু মানুষই মাঝে মধ্যে সেতুটি ব্যবহার করেন। ২০১৭ সালের সেই বন্যার পর থেকে প্রায় এক দশক ধরে এভাবেই পড়ে আছে সেতুটি। নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে ধরলার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া একটি জনপদের ইতিহাসের।
স্থানীয়দের অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা সেতুটি নিলাম করা হলে সরকার এখান থেকে রাজস্ব আয় করতে পারে। তাদের মতে, সেতুটি আর ব্যবহার উপযোগী না থাকায় প্রশাসনের উচিত নিয়ম অনুযায়ী এটি নিলামের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় যেকোনো মুহূর্তে সেতুটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা