হবিগঞ্জে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা, মানছেন না পরিবহন শ্রমিকেরা

হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে মোটর মালিক গ্রুপ। তবে সেই সিদ্ধান্ত মানছেন না পরিবহন শ্রমিকেরা। ফলে শুক্রবারও জেলার অধিকাংশ রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে হবিগঞ্জ-ঢাকা রুটে কয়েকটি বাস চলাচল করেছে।
হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে বাস আটকে রাখা এবং মালিক-শ্রমিক বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। এর ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শিমুল বিশ্বাসের অনুরোধে শুক্রবার থেকে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। আগামী রোববার ঢাকায় হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
শুক্রবার(২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রমিকেরা টার্মিনালে জটলা করে অবস্থান করছিলেন। বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে আসা যাত্রীরাও বাস না পেয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
পরিবহন শ্রমিক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। বাস চলাচল শুরু হলে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাতে চান না।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ বুধবার বিকেলে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। একই দিন সংগঠনের পক্ষ থেকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে বাস চলাচলে বাধা, যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগও রয়েছে।
সর্বশেষ ১১ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার পথে হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছে মোটর মালিক গ্রুপ।
ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বানিয়াচংয়ের গৌতম দাস নামে এক শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার সকালে সিলেটে তাঁর চাকরির পরীক্ষা ছিল। ভোরে হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সিলেটে যেতে পারেননি। ফলে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
ভোরের আকাশ/ এনউব