গোয়াইনঘাটে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, সঙ্গে থাকা ৩০ লাখ টাকা নিয়ে রহস্য

সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদরুল আলম (যুবক) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সাদেক হোসেনও আহত হন।
তাদের সঙ্গে থাকা ৩০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাদেক। তবে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে তারা ভোরে কোথায় যাচ্ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত বদরুল আলম উপজেলার হাদারপাড় গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক
সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ছিলেন বলে জানা গেছে। দুই সন্তানের জনক বদরুল বালুর ব্যবসা ও গরুর খামার পরিচালনা করতেন।
সাদেক হোসেনের ভাষ্য, শনিবার রাতে মনরতল বাজার থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে তারা হাদারপাড়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ভোরে গোরাগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় টাকা, মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেন তারা।
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা দা, চাকু ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বদরুলের মৃত্যু হয় এবং সাদেক আহত হন বলে দাবি করেন তিনি। নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়া জানান, বদরুল ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে কয়েকজন হামলা চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া বলেন, সাদেকের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে বদরুলের ওপর হামলা করতে দেখেন। বাধা দিয়েও তাদের থামাতে পারেননি। পরে স্বজনেরা আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে বদরুল ও সাদেকের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও জানান, বদরুল আগে ছাত্রদলের ইউনিয়ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে যুবদলের কোনো কমিটিতে নেই। তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করতেন। সঙ্গে থাকা ৩০ লাখ টাকা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে জানান। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
ভোরের আকাশ/আ.র