সাবেক ভূমি মন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় নতুন অগ্রগতি

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)-এর ঋণের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আরও ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারক মিজানুর রহমানের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদালত সূত্র জানায়, দুদকের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সাক্ষীরা মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আদালতে বক্তব্য দেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আদালত আগামী ১৩ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউসিবিএল থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে এই মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার পরিবারের সদস্য, ইউসিবিএলের সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আরামিট গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখিয়ে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে ওই অর্থ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উত্তোলন করে বিদেশে পাচার ও সম্পদ অর্জনে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ব্যাংকিং নিয়মনীতি লঙ্ঘন, প্রতারণা, জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরীসহ ব্যাংকের সাবেক কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেন, মামলায় দুদকের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ৭ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত মামলার ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগপত্রে মোট ৯২ জন সাক্ষীর নাম রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।
অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, তদন্তে কয়েকজন আসামির মৃত্যুর বিষয়টি পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ায় প্রাথমিক আসামি তালিকার বাইরে আরও কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরবর্তী শুনানির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/এনউব