পর্যটকদের ঈদ আনন্দ দিতে প্রস্তুত গাজীপুর সাফারি পার্ক

দেশের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র গাজীপুর সাফারি পার্ক পবিত্র ঈদুল ফিতরে নির্মল আনন্দ দিতে সাজেছে বর্নিল সাজে। প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে বরাবরই পছন্দের স্থান এ পার্ক। দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রও এটি। বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসু মানুষ। উৎসব আনন্দে দর্শনার্থীদের পদ চারণায় মুখোরিত থাকে পার্ক প্রাঙ্গন। এবার ঈদের দীর্ঘ ছুুটিতে বিপুল দর্শক সমাগম ঘটেবে এমনাটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। দর্শনার্থীদের সেবা দিতে প্রস্তুত পার্ক কতৃপক্ষ।
জানা যায়, ২০১৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফরি পার্কের যাত্রা শুরু। গন অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগষ্ট’২৪ তারিখে পার্কে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে দূর্বৃত্তরা । এতে পার্কের কার্যক্রম সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ নভেম্বর’২৪ তারিখ থেকে গাজীপুর সাফারি পার্ক নতুন নামে ফের পার্কের কার্যক্রম শুরু করে। সাফারি পার্ক বরাবরই প্রকৃতি প্রেমীদের পছন্দের স্থান। সবুজ প্রকৃতিতে নির্মল পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পার্কের প্রবেশ মুখে রয়েছে সুবিশাল সবুজ প্রান্তর। লেক ঝর্ণার পাশে বসে সময় কাটানোর ব্যবস্থা।
কোর সাফারি দর্শনার্থীদের সব থেকে বেশী পছন্দ। নির্ধারিত টিকেটে বিশেষ শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাসে চড়ে কোর সাফারিতে ঘুরতে হয়। এখানে কাছ থেকে উন্মুক্ত মাঠে বিচরণ করা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আফ্রিকান সিংহ, ভাল্লুক, জিরাফ, জেব্রা, ওয়াইল্ডবিষ্ট, বিভিন্ন প্রজাতীর হরিণ, গয়াল দেখা য়ায়।পথের পাশে দেখা মিলবে শত শত বন্য বানরের দল। সাফারি কিংডমে রয়েছে ম্যাকাউসহ দেশী বিদেশী পাখি শালা। নির্ধারিত টিকেটে প্রজাপতি পার্ক ও বিশাল ফিস পার্ক এবং ময়ুর এ্যাভিয়ারি পরিদর্শন করা যায়।
এছাড়া রয়েছে হাতি,ইমু পাখি, দূর্লভ শকুন, পেচা সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। রয়েছে জলহস্তি, কুমির ও সাপ সহ বিভিন্ন প্রজাতীর সরীশ্রিপ। গাছের ছায়ায় প্রিয়জনদের নিয়ে পায়ে হেঁটে এসব দেখা যায়। এখানে রয়েছে ঝুলন্ত ব্রীজ। তাছাড়া রয়েছে প্রকৃতি বিক্ষন কেন্দ্র। যেখানে বিভিন্ন কংকাল সহ সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রানীর ফসিল দেখা যায়। দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে সড়ক পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর অথবা বাঘের বাজার থেকে পার্কের প্রবেশ মুখ পর্যন্ত সড়ক রয়েছে। পার্কে এসে প্রথমে প্রবেশ টিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
প্রতি বছর ঈদ আনন্দে হাজার হাজার দর্শনার্থী পদ চারণায় মুখুরিত হয়ে উঠে পার্ক প্রাঙ্গন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার নারী পুরুষ। পশু পাখি সব মানুষের কাছে প্রিয়। তাই পার্কের দর্শক প্রিয়তার কমতি নেই।এবারের ঈদুল ফিতরে বিপুল সংখ্যক দশনার্থীর সমাগম হবে এমনটাই প্রত্যাশা পার্ক কর্তৃপক্ষের ।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান জানান, প্রতি বছড় ঈদানন্দে প্রচুর দর্শনার্থীর চাপ থাকে। এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের চাপ সামলানো জন্য নিরাপত্তা সহ সব ধরণের সুবিধা দিতে পার্ক প্রস্তুত। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিনই পার্ক খোলা। দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে ঈদের দিন বিকেলেও পার্ক খোলা থাকবে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ