জামালপুরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

জামালপুরে রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। দুর্ঘটনার পর বেপরোয়া গতির অভিযোগে বাসচালকের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকায় জামালপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার সেঙ্গুয়া গ্রামের আতাহার আলীর ছেলে মকবুল হোসেন (৬৯), বাটিকামারী গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে জালাল উদ্দীন (৬৪), একই গ্রামের ফরিদ হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৯) এবং পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার রুবেল (৩৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে জামালপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী রাজিব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি উল্টে অটোরিকশার ওপর পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন অটোরিকশার যাত্রী এবং একজন বাসের যাত্রী ছিলেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে রাজিব পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণে বারবার দুর্ঘটনার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার পর দায়ীদের শাস্তির দাবিতে তারা জামালপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক অবরোধও তুলে নেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা