শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় অচলাবস্থায় আখাউড়া স্থলবন্দর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৫, ৪:১৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভারতের নিষেধাজ্ঞায় অচলাবস্থায় আখাউড়া স্থলবন্দর
ভারতের নিষেধাজ্ঞায় অচলাবস্থায় আখাউড়া স্থলবন্দর

বাংলাদেশ থেকে ৬ ধরনের পণ্য আমদানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে এ বন্দর দিয়ে রপ্তানি অন্তত ৩০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা রপ্তানি বাণিজ্য শুরুর জন্য দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ছয়টি পণ্যের মধ্যে চারটি পণ্য নিয়মিত রপ্তানি হতো আখাউড়া বন্দর দিয়ে—যা এখানকার রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ। ইতোমধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়েছে বন্দরে। তৈরি পোশাক ও কাঠের আসবাব ছাড়া বাকি সব পণ্যই নিয়মিতভাবে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হতো। আজ সোমবার (১৯ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্দরে শুধু বরফায়িত মাছ, ভোজ্যতেল ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি হয়। আটটি ট্রাকে ৩৭ টন মাছ, সাতটি ট্রাকে ৮৬ টন তেল এবং একটি ট্রাকে ১৯ টন পাটজাত দ্রব্য আগরতলায় পাঠানো হয়। এর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০টি রপ্তানিমুখী ট্রাক যেত, সেখানে এখন মাত্র ১৬টি ট্রাক রপ্তানিতে অংশ নিয়েছে।

বন্দর ঘুরে দেখা যায়, স্থল শুল্কস্টেশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পণ্য পরিবহনে যুক্ত শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা অলস সময় পার করছেন। কেউ কেউ দুশ্চিন্তায় ব্যবসা চালু রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জানতে চাইলে স্থলবন্দরের এক ব্যবসায়ী বলেন, একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রায় সব পণ্যই বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। প্রাণ, আরএফএল, হাশিম ফুডসহ অনেক বড় কোম্পানির পণ্য এতে অন্তর্ভুক্ত। এতে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীরই ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।

মৎস্য রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক মিয়া বলেন, আগে ট্রানশিপমেন্ট বন্ধ করা হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বাকি কয়েকটি পণ্য ঠিকভাবে চালু না থাকলে আমাদের রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কাস্টমস, সিঅ্যান্ডএফ ও শ্রমিক সবাই বিপদে পড়বে।

আখাউড়া স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে প্রায় ৪২৮ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (চলতি) প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ৪৫৩ কোটি টাকার পণ্য। একই সময়ে আমদানি ছিল তুলনামূলক কম, চলতি অর্থবছরে মাত্র ১০৬ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। 
স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, প্রতিদিন ৪০-৫০টি গাড়ি রপ্তানিতে অংশ নিত। নিষেধাজ্ঞার পর এখন শুধু মাছ, সিমেন্ট ও শুঁটকি মাছ রপ্তানি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ ও শতভাগ রপ্তানিমুখী এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেও আগরতলায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে তা সরবরাহ করা হয় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে। ভারতের হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উত্তরণের পথ খুঁজতে সরকারের কূটনৈতিক মহলকে আরো কৌশলী হতে হবে বলে মত দিচ্ছেন বিশিষ্টজনরা। 

ভোরের আকাশ/এসআই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ারপ্তানিনিষেধাজ্ঞা

শেয়ার করুন: