নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে পাবিপ্রবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে “নজরুল বর্ষ উদযাপন ২০২৬” উপলক্ষে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। অনুষ্ঠানে সেমিনার বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ূন কবীর।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ তোমাদের মাধ্যমেই দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন সম্ভব। তোমাদের বিবেকবান নাগরিক হতে হবে। অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করবে। প্রতিবাদ হবে ন্যায় ও মানবিকতার। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সবজায়গায় ধারণ করতে হবে। তাঁর সাহস, সাম্য ও মানবিক দিককে আমাদের ধারণ করে আগাতে হবে। তিনি ছিলেন সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক কবি। অন্যায় ও অবিচার দেখলে আমরা নিরব থাকবনা। মানুষের মর্যাদাকে যেকোনো পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিব।
সেমিনার বক্তা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, নজরুল ও রবীন্দ্রনাথকে কিছু কিছু জায়গায় মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। এটা কিছুতেই কাম্য না। তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের অবদানকে আমাদের স্বীকার করতে হবে। তাঁদের বাদ দিয়ে কোনো গবেষণা সম্ভব না। তাদের লেখা দিয়ে তাদের বিচার করতে হবে। জ্ঞানের জগতে দলবলের কোনো স্থান নেই। এগুলোর ঊর্ধ্বে থেকে সাহিত্য সাধনার জন্য কাজ করতে হবে। নজরুল আমাদের সাম্যবাদী হতে শিখিয়েছেন। সাম্যবাদ মানে রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। ব্রিটিঁশ বিরোধী আন্দোলন থেকে প্রতিটি আন্দোলনে সামনে থেকেছেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তাকে চর্চা করা মানে আমাদের বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ করা। নজরুলকে আমাদের কারিকুলামে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। তাকে নিয়ে আরও বেশি পত্রিকায় লিখতে হবে। অনেক বেশি চর্চা করতে হবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান বলেন, নজরুল সারা বিশ্বের মানুষের জন্য সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছেন। তার কাছ থেকে সংগ্রামী মানুষরা অনুপ্র্রেরণা পেয়েছেন এবং এখনো পাচেছন। আমাদের সাহিত্যোর জন্য তাকে চর্চা করতে হবে আরও বেশি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ। নজরুলের সাহিত্যা, গান, কবিতা আবৃতি, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারী ২ তে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাবিহা আফরিন বাঁধন।
ভোরের আকাশ/সু.পা