ফ্যাশন শো ঘিরে নতুন রূপে হেমনগর জমিদার বাড়ি

কয়েকশ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা হেমনগর জমিদার বাড়ি। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে জৌলুস হারাতে বসা টাঙ্গাইলের গোপালপুরের এই জমিদার বাড়ি এবার যেন ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির আঙিনায় তারকাদের অংশগ্রহণে জমকালো ফ্যাশন শোর আয়োজন ঘিরে দুই দিন ছিল উৎসবের আমেজ।
গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর (শুক্র ও শনিবার) হেমনগর জমিদার বাড়ির আঙিনায় এ বিশেষ ফ্যাশন শোর আয়োজন করা হয়। দেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস ‘সভ্যতা ফ্যাশন হাউস’ ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করে। এতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা তারকারা অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন ও সংস্কারের অভাবে ঐতিহাসিক এ জমিদার বাড়িটি ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছিল। সরকারি বা প্রশাসনিকভাবে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ না থাকলেও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে কিছুদিন আগে স্থাপনাটির চিত্র বদলাতে শুরু করে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা জমিদার বাড়ির দেয়ালে জন্মানো পরগাছা ও আগাছা পরিষ্কার করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনাও সরিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এ উদ্যোগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
এরপর ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী আসতে শুরু করেন। দর্শনার্থীদের এই আগ্রহ ও হেমনগর জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যকে আরও পরিচিত করে তুলতেই দুই দিনব্যাপী ফ্যাশন শোর আয়োজন করা হয়।
ফ্যাশন শো উপলক্ষে জমিদার বাড়ির আঙিনা, বারান্দা ও দেয়ালগুলোকে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়। রাজকীয় বিভিন্ন আসবাবপত্র, দেয়ালে নতুন রঙের প্রলেপ, মেঝেতে নান্দনিক আলপনা ও নানা রঙের কাপড়-ফুল দিয়ে পুরো চত্বর সাজানো হয়।
এ ছাড়া কৃত্রিমভাবে তৈরি জলাশয়ে ভাসমান শাপলা পাতা ও ফুলের উপস্থিতি আয়োজনের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। চোখধাঁধানো আলোকসজ্জায় রাতে প্রাচীন স্থাপনাটি ঝলমল করে ওঠে। দর্শনার্থীদের কাছে মনে হয়, ‘পরীর দালান’খ্যাত হেমনগর জমিদার বাড়ি যেন সাময়িকভাবে ফিরে পেয়েছে তার পুরোনো জৌলুস।
ফ্যাশন শো দেখতে আসা স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও দর্শনার্থীরা এমন আয়োজনকে স্বাগত জানান। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি নতুন করে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
তবে তাঁদের দাবি, সাময়িক সাজসজ্জা দিয়ে শুধু স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়ানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সংরক্ষণ করা যাবে না। কয়েকশ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে হেমনগর জমিদার বাড়ির স্থায়ী সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে স্থাপনাটি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও জানতে পারবে এই জমিদার বাড়ির গৌরবময় ইতিহাস।
ভোরের আকাশ/সু.পা