শিরোনাম
সোনার ভরিতে বাড়লো ৩ হাজার ৩২৪ টাকাতেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার অঙ্গীকার সংবলিত বিলবোর্ড ও ব্যানার উন্মোচনডিসেম্বরে নির্ধারণ হবে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিসীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ডাক টিকেট উন্মোচনরিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরাগাজীপুরে ফের পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপজিয়াউর রহমানের সমাধিতে চীনের আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রীর শ্রদ্ধাসোনার ভরিতে বাড়লো ৩ হাজার ৩২৪ টাকাতেহরানে ট্রাম্পকে হত্যার অঙ্গীকার সংবলিত বিলবোর্ড ও ব্যানার উন্মোচনডিসেম্বরে নির্ধারণ হবে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিসীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ডাক টিকেট উন্মোচনরিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরাগাজীপুরে ফের পোশাকশ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপজিয়াউর রহমানের সমাধিতে চীনের আন্তর্জাতিক বিষয়কমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আবেদনের সময়সীমা শেষ, বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারছে না নারায়ণগঞ্জের ৪ হাজার শিক্ষার্থী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করতে না পারায় চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার তিন শতাধিক কিন্ডারগার্টেনের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী। 

প্রশাসনিক জটিলতা ও আবেদনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির এসব শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে হতাশা দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। মেধা যাচাইয়ের স্বার্থে সব শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান পরিচালক ও অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন ও উচ্চবিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলিয়ে মোট ৪৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করেছে প্রায় ১১০টি প্রতিষ্ঠান। ফলে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আবেদন করতে না পারা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা জানান, সরকারের নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে সময়ের প্রয়োজন হয়। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেনি। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মেধা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তাঁরা আরও বলেন, শিক্ষা শিশুদের মৌলিক অধিকার। জুলাই বিপ্লবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের পর আবারও শিক্ষাক্ষেত্রে এমন বৈষম্য তৈরি হোক, তা তাঁরা চান না। তাই এ বছর সব শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মিজমিজি এলাকার হাজী সামছুদ্দিন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, পাঠদানের অনুমতির আবেদনের ফি বাবদ তিন হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে জটিলতায় পড়তে হয় তাঁকে।

তিনি বলেন, অনলাইনে ফি পরিশোধ না হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। পরে আবারও অনলাইনে তিন হাজার টাকা পরিশোধ করে আবেদন সম্পন্ন করেন। তবে তাঁর বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নন।

বাতানপাড়া এলাকার জিয়াউল হক কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক জিয়াউল হক বলেন, সরকারের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদন করায় এ বছর তাঁর প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়েছে। মেধা যাচাইয়ের স্বার্থে সবার অংশগ্রহণে বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কিন্ডারগার্টেন পরিচালক বলেন, শিক্ষার পরিবেশ ও মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে পড়াচ্ছেন। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার কারণে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে না, এটি দুঃখজনক। তিনি সব শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

আরেক পরিচালক বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার একটি বড় অংশ কিন্ডারগার্টেনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের নানা প্রত্যাশা থাকায় অনেকেই অর্থ ব্যয় করে সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে পড়াচ্ছেন। এমনকি সরকারি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অনেকেই তাঁদের সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে পড়ান। তাই নতুন নিয়ম চালুর প্রথম বছর অন্তত সব শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে মেধা যাচাই করা উচিত।

পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের আবেদন করতে দেরি হতে পারে। কিন্তু এর দায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কেন নেবে? শুধু আবেদনের সময়সীমা পার হওয়ার কারণে তাদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। সরকারি নীতিমালা সহজ ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি চলতি বছর সব শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

আরও পড়ুন

বদলগাছীতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল উদ্দিন বিপ্লব বলেন, সদর উপজেলায় ৪৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১১০টির মতো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠদানের অনুমতির আবেদন করেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো আবেদন করতে না পারায় নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল, আদর্শ হাইস্কুল ও সিদ্ধিরগঞ্জের পিডিবি স্কুলসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। অনলাইনে আবেদনের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক আবেদনই তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, মেধা যাচাইয়ের জন্য সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে তাঁদের কিছু করার নেই। সরকারি সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: