নিয়ামতপুরে ৬০ ঊর্ধ্ব প্রবীণদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ফুটবল টুর্নামেন্ট

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ২ নম্বর চন্দননগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম গোবিন্দপুর। যোগাযোগব্যবস্থার দুর্ভোগসহ নানা সমস্যার কারণে বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসা এই গ্রাম এবার আলোচনায় এসেছে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তরুণদের উদ্যোগে ৬০ বছর ঊর্ধ্ব প্রবীণদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক দিনের প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে গোবিন্দপুর স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে এক ম্যাচের এই ব্যতিক্রমী ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন গ্রামের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জব্বার, মান্নানসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি।
মজার বিষয় হলো, অংশগ্রহণকারীদের কেউই শৈশবে প্রকৃত অর্থে ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন না। তবে জীবনের এই পড়ন্ত বয়সে এসে তরুণদের এমন আয়োজনে মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে তাঁরা যেন ফিরে যান শৈশবের স্মৃতিতে। একটি দিনের জন্য হলেও ফুটবল নিয়ে মেতে ওঠেন পুরোনো দিনের আনন্দে। বয়সের ভার থাকলেও মাঠে তাঁদের উপস্থিতি ও খেলার প্রতি আগ্রহ দর্শকদের মধ্যে তৈরি করে বাড়তি উৎসাহ।
দর্শকসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও বিনোদনের কোনো কমতি ছিল না। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র হলে টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী ও বিজিত দল নির্ধারণ করা হয়। পরে দুই দলের মধ্যে প্রতীকী অর্থ পুরস্কার হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়। এভাবেই হাসি-আনন্দ ও প্রবীণদের স্মৃতিময় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।

আয়োজক আল-মামুন (২৬) বলেন, “আমরা সাধারণত তরুণদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন দেখি। কিন্তু প্রবীণদের নিয়ে এমন আয়োজন সচরাচর হয় না। তাঁদের মুখে হাসি ফোটানো এবং এক দিনের জন্য হলেও শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন অব্যাহত রাখতে চাই।”
খেলায় অংশ নেওয়া ৬০ ঊর্ধ্ব জব্বার বলেন, “এই বয়সে এসে আবার ফুটবল খেলব, তা কখনো ভাবিনি। ছোটবেলায় খেলাধুলার অনেক স্মৃতি থাকলেও খেলোয়াড় হওয়ার সুযোগ হয়নি। আজ মাঠে নেমে খুব আনন্দ পেয়েছি। মনে হয়েছে, আবার যেন ছোটবেলায় ফিরে গেছি।”
স্থানীয় তরুণ দর্শক সিহাব (২১) বলেন, “আমরা সাধারণত তরুণদের ফুটবল খেলতে দেখি। কিন্তু নিজেদের গ্রামের বয়স্ক মানুষদের এভাবে মাঠে খেলতে দেখা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি। তাঁদের আনন্দ দেখে আমাদেরও খুব ভালো লেগেছে। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে গ্রামের সবাই আনন্দ পাবে।”
খেলায় সভাপতিত্ব করেন আব্দুল হামিদ (৭০)। তিনি বলেন, “বয়স মানুষের শরীরে বাড়ে, কিন্তু আনন্দ করার ইচ্ছা কখনো শেষ হয় না। প্রবীণদের নিয়ে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। তরুণেরা আমাদের কথা চিন্তা করে এমন একটি আয়োজন করেছে, এতে আমরা আনন্দিত। সমাজে তরুণ ও প্রবীণদের মধ্যে এমন আন্তরিক সম্পর্ক বজায় থাকুক—এটাই প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, “পাশাপাশি তরুণদের প্রতিও আমার আহ্বান থাকবে, তারা যেন মোবাইল ফোনের অপব্যবহার ও মাদক থেকে দূরে থাকে। অবসর সময়ের অন্তত বিকেলটা ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে কাটায়। এতে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে। তরুণ সমাজ খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠুক, এটাই আমার কামনা।
ভোরের আকাশ/এনএস