জমি বিক্রি করে ৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি

জার্মান ফুটবল দলের প্রতি অসীম ভালোবাসা থেকে নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রি করে ৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করেছেন মাগুরার সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন।
বিশ্বের দীর্ঘতম জার্মানির পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন। বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা জার্মান ফুটবল দলের সমর্থকরা পতাকাটি দেখতে ভিড় করেন।
আমজাদ হোসেন জানান, প্রতি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি জার্মানির পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে আসছেন। ২০০৬ সালে প্রথম দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন তিনি। এরপর ২০১০ সালে আড়াই কিলোমিটার, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার, ২০১৮ সালে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এবং বর্তমানে ৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেছেন।
তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত তার বাড়িতে গিয়ে তাকে সম্মাননা প্রদান করেন। একই সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাকে জার্মান ফুটবল দলের অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়।
আমজাদ হোসেন বলেন, শুরুতে পরিবারের সদস্যরা তার এই উদ্যোগের বিরোধিতা করলেও তিনি নিজের ইচ্ছাশক্তির কাছে অটল ছিলেন। জমানো অর্থের পাশাপাশি নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রি করে পতাকা তৈরির কাজ চালিয়ে গেছেন।
পতাকা দেখতে আসা কুষ্টিয়ার সমর্থক নজরুল ইসলাম বলেন, “জার্মানির প্রতি আমজাদ ভাইয়ের ভালোবাসা সত্যিই বিরল। তার মতো আমরাও জার্মানি দলকে ভালোবাসি এবং তাদের সাফল্য কামনা করি।”
জার্মানির প্রতি তার বিশেষ অনুরাগের কারণ সম্পর্কে আমজাদ জানান, ২০০৫ সালে তিনি একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ না হলেও পরে জার্মানিতে তৈরি একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবন করে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই জার্মানির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়।
তিনি বলেন, “জার্মানির তৈরি ওষুধ খেয়ে সুস্থ হওয়ার পর দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই ২০০৬ সালে প্রথম পতাকা তৈরি করি। এরপর প্রতি বিশ্বকাপে পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়েছি। ভালোবাসা থেকেই এসব করেছি, কারও কাছে কখনও সহযোগিতা চাইনি।”
আমজাদ হোসেন আরও জানান, তার স্বপ্ন এই বিশাল পতাকাটি ভবিষ্যতে জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য উপহার দেওয়া, যাতে তার ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকে।
ভোরের আকাশ/ র.ই