গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুকুল গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার বহুল আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোকলেসুর রহমান মুকুলকে ঢাকার গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ মামলায় মোট পাঁচজন আসামি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব ইসলাম।
এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে পুলিশের একটি দল ঢাকার গাজীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাকে গাজীপুরের কোথায় থেকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
ওসি বলেন, মামলার প্রধান আসামি মোকলেসুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযান পরিচালনার স্থান বা অন্যান্য তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।গ্রেপ্তারকৃত মোকলেসুর রহমান মুকুল সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি।
এদিকে মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানানো হচ্ছে না। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে হামলার ঘটনায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী শিমুলতাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মওলানার ছেলে। তিনি রংপুরের ধাপ সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
একই ঘটনায় তার বন্ধু সালাউদ্দিনও গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুন রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মী।
এ ঘটনায় ২২ জুন রাতে নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনকে নামীয় এবং আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোকলেসুর রহমান মুকুলকে।
ভোরের আকাশ/ইউএম