শ্রীপুরে পোশাক কারখানায় শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ

গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার এন্ড কোং নামক একটি পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শ্রমিকরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ আজ কারখানার সকল শ্রমিকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভয় থেকে শ্রমিকদের ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এ আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে আতকং ভয় কাজ করলে এরকম পরিস্থিতি হতে পারে।প্যানিক অ্যাটাক হলো কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র ভয় ও আতঙ্কের অনুভূতি, যার সাথে শরীর কাঁপতে থাকা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা এবং মৃত্যুর মতো ভয় যুক্ত থাকে। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে এই লক্ষণগুলো চরম আকার ধারণ করে।
শ্রমিকরা জানায় কারখানার একটি কক্ষে হঠাৎ করেই শ্রমিকদের অস্বস্তি শুরি হয়।এসময় তারা বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন। অনেকেই অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পর কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কারখানার শ্রমিক রফিক জানান, কিছুদিন আগে এই কারখানায় সুইং অপারেটর লিজা বেগম নামে এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মারা যান। এবারও এই ফ্লোরে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার পর থেকে শ্রমিকদের মধ্যে ভয় কাজ করছিলো।
অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মুসা কলিমুল্লাহ জানান, ৫০/৬০ জন শ্রমিককে এই হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অনেকেই বাসায় চলে গেছেন। তবে আরও অসুস্থ শ্রমিক আসছেন। সাতজন শ্রমিক কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবুল হোসাইন বলেন, অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ শ্রমিকের বমি ও মাথা ঘোরার উপসর্গ রয়েছে।তাদের মধ্যে কোন একটা ভয় কাজ করছিলো মনে হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইঞা বলেন, ঘটনার পরপরই অসুস্থ শ্রমিকদের দেখতে হাসপাতালে
গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক ঘটনার কারণ জানা যায় নি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানাটি একদিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
তবে কারখানার দ্বায়িত্বশীল কেউ বক্তব্য দিতে রাজী হয়নি।উল্টো সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া সহ অসহযোগিতার ঘটনা ঘটেছে।