কলকাতার হোটেলে আগুন
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আসছে আজ

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা ইন’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ছয় বাংলাদেশির মরদেহ শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সরকারি খরচে সড়কপথে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
গত শুক্রবার রাতে কলকাতার পিস ওয়ার্ল্ডের হিমাগারে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার সকালে পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়।
বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী ৫ জন হলেন- সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সি ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবু।
ভোমরা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী ১ জন হলেন- সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজু। এছাড়া নিহত অপর বাংলাদেশি সাতক্ষীরার রেবতি সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতে থাকা এক আত্মীয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেখানেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্য ও দাফন পৃথক ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হবে। সৎকার: শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশু সন্তান স্বর্ণশীষের সৎকার হওয়ার কথা রয়েছে। দাফন: দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে এবং পরে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় আফসানার বাবার বাড়িতে নেওয়া হবে। এরপর বাদ এশা কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের দাফন সম্পন্ন হওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর সঠিক সময়ের ওপর দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, প্রায় নয় বছর আগে ভিন্ন ধর্মের হলেও ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দেবাশীষ ও আফসানা। মহিমা ও স্বর্ণশীষ নামে দুই সন্তান নিয়ে সুখের সংসার ছিল তাদের। তবে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অগ্নিদগ্ধ ও সৃষ্ট ধোয়ায় দমবন্ধ হয়ে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ মোট নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে কফিনবন্দি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সরকারি খরচে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ইউএম