পিরোজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৭০, তিন উপজেলায় জেলা তথ্য অফিসের সচেতনতামূলক অভিযান

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পিরোজপুরের তিনটি উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিস।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পিরোজপুর জেলার তিনটি উপজেলায় এ বিষয়ে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হয়। পিরোজপুরের সদর উপজেলা, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউনিসেফের সহায়তায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
জেলা তথ্য অফিস জানায়, যুবক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন হট স্পট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই কর্মসূচি চলবে।
এছাড়া এর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে জেলার সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সাথে 'রিস্ক কম্যুনিকেশন এন্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট’ সভা মাঠ পর্যায়ে অভিভাবক, বিভিন্ন কমিউনিটি নেতৃত্ব ও অন্যান্য নেটওয়ার্কের সাথে সংলাপ এবং স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালানোর পাশাপাশি লিফলেটও বিতরণ করা হবে।
জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক সাইফুদ্দিন আল মাদানি বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতনতামূলক সড়ক প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিস। এছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সম্পর্কিত ভিডিও বার্তা বিভিন্ন জনবহুল স্থানে প্রদর্শন করা হচ্ছে । জেলা তথ্য অফিস, পিরোজপুরে ফেইসবুক পেইজেও নিয়মিত সচেতনতামূলক পোষ্ট দেওয়া হচ্ছে।
সিভিল সার্জনের অফিসের সূত্রমতে (২১ জুলাই) পর্যন্ত পিরোজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৮৭০জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮১৮ জন। মারা গেছেন ১ জন। এর মধ্যে পিরোজপুর সদরে ৪২৩ জন, নেছারাবাদে ১৬০ জন, ভান্ডারিয়ায় ১৪৯ জন, কাউখালীতে ৬১ জন, নাজিরপুরে ৫০ জন, মঠবাড়িয়ায় ২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। পিরোজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ।
উল্লেখ্য, পিরোজপুরে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় কমিটি কাজ করছে।কমিটি নিয়মিত বৈঠক করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছে। প্রতিরোধ কার্যক্রমকে একটি গণমূখী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার লক্ষ্যে কমিটি গুরুত্বারোপ করেছে।
এছাড়া জেলার সকল এলাকায় নিয়মিত সার্ভে পরিচালনা এবং ম্যাপিং এর মাধ্যমে ডেঙ্গুপ্রবণ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী সমন্বিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরোধ কার্যক্রমকে সফল করতে সভা থেকে তিনটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এম