ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুনিয়াউট এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবসহ চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় এলাকার সমাজসেবামূলক সংগঠন 'বন্ধন সমাজকল্যাণ সংগঠন' এর সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি এবং পুনিয়াউট দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ায় অবস্থিত সংগঠনটির অফিস বোমা মেরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। এতে সদস্যগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়রা জানান, পুনিয়াউট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে এলাকাবাসী বর্তমানে ভীষণ আতঙ্কিত। চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের পর খোদ অপরাধীদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসা স্থানীয় সামাজিক সংগঠনকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া ও তাদের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি পুরো পুনিয়াউট দক্ষিণ ও পশ্চিম পাড়াবাসীর মধ্যে রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং শহরের ২নং পুলিশ ফাঁড়ি থেকে কমবেশি ১ কিলোমিটার দূরত্বে সংগঠিত এসব অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার মানুষজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, গত ১৪ মে মধ্যরাতে সন্ত্রাসীরা জিতু মিয়ার মুদি দোকানের জানালা ভেঙে নগদ টাকাসহ দোকানের মালামাল নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা। গত ১৬ মে এক ভাড়াটিয়ার বাসায় ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করে। ভুক্তভোগী পরিবার এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এদিনই দিনের আলোতে দেওয়াল টপকে এক বাড়িতে চুরির চেষ্টাকালে স্থানীয়দের ধাওয়ায় চোর চক্র পালিয়ে যায়। তাছাড়া সংঘবদ্ধ অপরাধীরা প্রতিনিয়ত পুনিয়াউট বাইপাস মোড় থেকে পৈরতলা রেলগেট পর্যন্ত সড়কে উৎপেতে থেকে পথচারীদের টাকা-পয়সা ছিনতাই করে। এই রুটে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
চিহ্নিত চোর-ডাকাতদের কয়েকজন জামিনে আসার পর এলাকায় বেড়ে গেছে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। তারা হচ্ছে- পুনিয়াউট উত্তরপাড়ার ফজু ঠাকুরের ছেলে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামী কালু ঠাকুর, নাগরবাড়ির সাধন মিয়ার ছেলে ফখরুল, পুনিয়াউট কুমার ডোবার সজিব মিয়ার ছেলে সিন্দীপ, মাষ্টার কাজল মিয়ার ছেলে সায়েল, পুনিয়াউট উত্তরপাড়ার শিপনের ভাগিনা রহমত। এদের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি অপরাধীচক্র এলাকায় সক্রিয়।
এলাকায় একের পর এক অপরাধ বাড়তে থাকায় পুনিয়াউট দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ার যুবসমাজ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে গঠিত হয় সামাজিক সংগঠন 'বন্ধন সমাজকল্যাণ সংগঠন'। অপরাধ ঠেকাতে এলাকায় রাত্রিকালীন পাহারার উদ্যোগ নেন এর সদস্যরা। কিন্তু এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সন্ত্রাসী বাহিনী। শুধু তাই নয়, পাহারার সাথে জড়িত 'বন্ধন সমাজকল্যাণ সংগঠন'- এর সদস্যরা যদি বাড়ির বাইরে বের হয়, তবে তাদের দেখামাত্রই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংগঠনের সদস্যরাসহ সাধারণ মানুষজন এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অপরাধীদের এমন বেপরোয়া ও দুঃসাহসিক আচরণে পুনিয়াউট বাইপাস মোড়, পৈরতলা রেলগেট ও দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান এলাকাবাসী। তারা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জামিনে বের হওয়া চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং তাদের ২০-২৫ জনের গ্যাংটিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তাছাড়া সামাজিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে "বন্ধন সমাজকল্যাণ সংগঠনের" সদস্যগণের মাধ্যমে চালু টহল ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সংগঠনটির কার্যালয় এবং সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানেরও দাবিও করা হয়। পাশাপাশি পুনিয়াউট বাইপাস মোড় থেকে পৈরতলা রেলগেট পর্যন্ত সড়কে স্থায়ীভাবে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত বিশেষ পুলিশি টহলের ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়।
বন্ধন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডাক্তার মোবারক উল্লাহ জানান, এলাকায় চুরি-ছিনতাই, অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা এক হয়েছি, তখনই কিছু দুস্কৃতিকারী সংগঠনের সদস্যদের ভয়ভীতি এবং সংগঠন উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি থানায় জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।
এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম জানান, অপরাধীদের নাম তালিকা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কাজ চলছে। সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/ইউএম