উলিপুরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে পরিবারকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বসতবাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা কেটে পুকুরের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে ছয় সদস্যের একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা হাফেজ আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আদম আলী।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবেরকুটি গ্রামে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাহেবেরকুটি গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে আদম আলী ও তাঁর চাচা আহাম্মদ আলী পৈতৃক সূত্রে পাওয়া খতিয়ান নম্বর ২০১-এর দাগ নম্বর ২৪৭৩-এর অন্তর্ভুক্ত মোট এক একর পাঁচ শতক জমি পারিবারিকভাবে ভাগ-বাটোয়ারা করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তবে কয়েক বছর ধরে বসতভিটার জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে।
ভুক্তভোগী আদম আলীর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলতি বছরের শুরুতে তাঁর চাচাতো ভাই হাফেজ আব্দুল কুদ্দুস তাঁদের বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি কেটে পুকুরের সঙ্গে মিশিয়ে দেন। পরে সেখানে টিনের বেড়া দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ছয় সদস্যের পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় পরিবারের অসুস্থ ও বয়স্ক সদস্যদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া, সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হতেও তাঁদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
আদম আলী বলেন, পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে গত ২১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘এটি আমাদের পারিবারিক বিষয়। জমিজমা নিয়ে মামলা থাকায় আমরা আমাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছি।’
অন্যদিকে আদম আলী বলেন, ‘মামলা আমার বাবা ও চাচার মধ্যে। কিন্তু আমার বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া অযৌক্তিক। আমরা ছয়জন মানুষ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছি না।’
স্থানীয়রা জানান, জমি নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধ দীর্ঘদিনের। চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সমাধান করা না হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বাভাবিক চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়াসহ অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা