শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

উলিপুরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ৫ বছরের রোহানকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

যে বয়সে মায়ের আঁচল ধরে খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে ছুটোছুটি আর হাসি-আনন্দে দিন কাটানোর কথা, সেই বয়সেই দুরারোগ্য ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছে পাঁচ বছরের শিশু রোহান হোসেন লাব্বাইক। শরীরে মরণব্যাধি বাসা বাঁধলেও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছেন না তার দরিদ্র বাবা-মা। সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজেদের শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। তাই সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন রোহানের বাবা-মা।

রোহান কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী কর্পূরা উত্তর কদমতলা গ্রামের রিকশাচালক শাহাজাহান ও রিনা বেগম দম্পতির ছেলে। নদীভাঙনের শিকার এই পরিবারটি এরই মধ্যে সাতবার বসতভিটা হারিয়েছে। তিস্তার ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা এখন বাঁধের রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর তুলে সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে কোনোমতে বসবাস করছেন। দিনমজুরি ও রিকশা চালিয়ে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই চলে পরিবারের খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও নিত্যদিনের খরচ। এর মধ্যে ছোট্ট রোহানের ক্যান্সারের চিকিৎসা যেন পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে আরেক দুঃসহ বিপর্যয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ রোহানের কোমরের বাঁ পাশে কিডনির কাছে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। সন্তানের শরীরে এমন পরিবর্তন দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মা রিনা বেগম। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয় তাকে। পরে স্থানীয় চিকিৎসক ও এলাকার মানুষের পরামর্শে মার্চ মাসের শুরুতে রোহানকে ঢাকার শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস চিকিৎসা চলার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কিডনিতে টিউমার ধরা পড়ে।

চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। কিন্তু দরিদ্র রিকশাচালক বাবার কাছে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫ হাজার টাকা জোগাড় করাও ছিল অসম্ভবের মতো। সন্তানের জীবন বাঁচাতে টাকার জন্য যখন দিশেহারা পরিবারটি, তখন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার ইসহাক আলী বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি এলাকার বিত্তবান মানুষ, স্কুল-মাদ্রাসা ও হাট-বাজারে সহযোগিতা সংগ্রহ করে অস্ত্রোপচারের টাকা জোগাড়ে সহায়তা করেন।
পরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে রোহানের অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা তার শরীরের বাঁ পাশের কিডনিসহ টিউমারটি অপসারণ করেন। পরবর্তী পরীক্ষায় শিশুটির ক্যান্সার শনাক্ত হয়। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোহানকে সুস্থ করে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। প্রতি মাসে নিয়মিত রেডিওথেরাপি ও উচ্চমাত্রার কেমোথেরাপিসহ বিভিন্ন চিকিৎসা নিতে হবে। এই চিকিৎসা প্রায় ১৫ থেকে ২০ মাস পর্যন্ত চলতে পারে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে।
কিন্তু এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা রোহানের পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। সন্তানের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে বাবা শাহাজাহান ইতোমধ্যে তার জমানো সব টাকা খরচ করেছেন। পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন রিকশাটিও বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন ঘরে নেই সঞ্চয়, নেই উপার্জনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা। একদিকে সংসারের সাত সদস্যের খাবার ও জীবনযাত্রার খরচ, অন্যদিকে সন্তানের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রোহানের বাবা শাহাজাহান বলেন, “ছেলেকে বাঁচানোর জন্য যা ছিল সবকিছু খরচ করে ফেলেছি। আমার রিকশাটাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন ছেলের চিকিৎসা কীভাবে চালাব, তা জানি না। একজন বাবা হয়ে নিজের সন্তানের কষ্ট চোখের সামনে দেখা কতটা কষ্টের, তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে সমাজের মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই।”

আরও পড়ুন

সাভারে আবারও প্রেসারকুকার বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

রোহানের মা রিনা বেগমও সন্তানের জন্য মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ছোট ছেলেটা এখনো ঠিকমতো পৃথিবীটাকেই চিনতে শেখেনি। অথচ এত বড় রোগে আক্রান্ত হয়েছে। টাকার অভাবে যদি ছেলের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমরা তাকে হারিয়ে ফেলব। মানুষের সহযোগিতা পেলে আমার ছেলেটা হয়তো আবার সুস্থ হয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবে।” রোহানের বাবা-মা সমাজের বিত্তবান, মানবিক মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি সন্তানের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

রোহান হোসেন লাব্বাইকের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ০১৩০০১৮১৭২০ নম্বরে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

রোহানকে বাঁচাতে, ক্যান্সারে আক্রান্ত

শেয়ার করুন: