সোনারগাঁয়ে দূর্বৃত্তদের অস্ত্রের আঘাতে যুবদল নেতা খুন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জহির ফকির (৫০) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ বালুরমাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিজের ওষুধের ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় হত্যার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। তবে হত্যার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত জহির ফকির নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় জহির ফকিরের একটি ওষুধের ফার্মেসি রয়েছে। প্রতিদিনের মতো বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতেও ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, কালাপাহাড়িয়া এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর মামার বিরোধ ছিল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে জহির ফকিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব খোরশেদ আলম বলেন, জহির ফকির যুবদলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তাঁর বাড়ি কালাপাহাড়িয়ায় হলেও তিনি মুন্সীগঞ্জে বসবাস করতেন। ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাঁকে হত্যা করেছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। জহির তাঁকে প্রায়ই হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা বলতেন বলেও জানান তিনি। তবে কার সঙ্গে জহিরের বিরোধ ছিল, তা নিশ্চিত হতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন খোরশেদ আলম।
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, জহির ফকির হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা