শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রীপুরে ব্যবসায়ীকে আটকের পর অবরুদ্ধ র‌্যাব, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে মুক্ত

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্রসহ এক ব্যবসায়ীকে আটকের পর র‌্যাবের দুটি গাড়ি অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে গ্রামবাসী। ওই সময় গ্রামবাসী প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী শ্রীপুর-বরমী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্যরা এসে র‌্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যান। 

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরামা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল  পৌঁছে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।এক পর্যায়ে সেখান থেকে সরে যায় গ্রামবাসী। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য  ঘটনাস্থল থেকে ১৫/২০ জনকে আটক করা হয়।

র‌্যাবের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ব্যবসায়ীর নাম মোশারফ হোসেন (৪০)। তিনি বরমী এলাকার আহমদ আলীর ছেলে। মোশারফ হোসেন বরামা চৌরাস্তা এলাকায় রিকশার গ্যারেজ ব্যবসায় যুক্ত।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান জানান,  রবিবার  বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার উত্তরা ক্যাম্পের র‌্যাবের -১ এর সদস্যরা দুইটি গাড়িতে বরামা চৌরাস্তা এলাকায় যান। সেখানে তাঁরা মোশারফ হোসেনের দোকানে অভিযান চালিয়ে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন। পরে তাৎক্ষণিক তাঁরা (র‌্যাব) মোশারফ হোসেনকে হাতকড়া পরিয়ে তাঁদের গাড়িতে তুলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব জানান, মুহূর্তে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা র‌্যাবের দুটি গাড়ির সামনে-পেছনে অবস্থান নেন। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন গ্রামবাসীও। একপর্যায়ে তারা র‌্যাবের গাড়ি দুটির সামনে-পেছনে কাঠ, বাঁশ ও গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে শ্রীপুর-বরমী আঞ্চলিক মহাসড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খবর পেয়ে থানা পুলিশের দুটি গাড়িও সেখানে পৌঁছে। পরে থানা পুলিশকে বহনকারী গাড়ি দুটিকেও একই কায়দায় অবরোধ করে রাখে গ্রামবাসী। পরে পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের র‌্যাবের সদস্যরা আরো দুইটি গাড়িযোগে সেখানে পৌঁছে আটকে রাখা গাড়িগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আটকে রাখা গাড়িগুলো সামনে-পেছনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন গ্রামবাসী। ওই সময় তারা (গ্রামবাসী) বিভিন্ন স্লোগানও দেন। একপর্যায়ে র‌্যাবের গাড়ি থেকে মোশারফ হোসেনকে ছিনিয়ে নেন তারা।

মোশারফ হোসেনের মামা আফাজ উদ্দিন দাবি করেন, তার ভাগনে নির্দোষ। মোশারফ হোসেনের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। র‌্যাব অস্ত্র উদ্ধার অভিযান দেখিয়ে মোশারফ হোসেনকে আটক করেছিলেন। উদ্ধার করা অস্ত্রও মোশারফ হোসেনের নয়।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে র‌্যাবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মনোয়ারা বেগম দাবি করেন, গত শুক্রবার রাতে ওই এলাকার মো. জহিরুল ইসলাম লিটন নামে এক কুখ্যাত সন্ত্রাসী কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিন রাতেই তাঁর বাড়ি ঘেরাও করেছিলেন গ্রামবাসী। কিন্তু লিটন পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে আটক করতে পারেননি পুলিশ। পরে লিটনের স্ত্রীর করা অভিযোগে র‌্যাব সদস্যরা মোশারফ হোসেনকে আটক করেছিলেন।

মনোয়ারা বেগম আরো জানান, আটকের পর তাঁরা মোশারফ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে র‌্যাবের গাড়িগুলোর সামনে-পেছনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। শুধু ছেড়ে দেওয়ায় নয়, তাঁর (মোশারফ) বিরুদ্ধে কোনো অস্ত্র মামলা দেওয়া হবে না এমন গ্যারান্টিও চেয়েছিলেন তাঁরা।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পৌঁছার পর গ্রামবাসী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।এসময় ১৫/২০ জনকে আটক করা হয়।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘র‌্যাবের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সমস্যা হয়েছিল। তাদেরকে আটকে রাখা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পৌঁছলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে পরিস্থিতি শান্ত করে।’

ভোরের আকাশ/মো.আ.

অবরুদ্ধগাজীপুরর‌্যাব

শেয়ার করুন: